বিজ্ঞাপন
সিটি নির্বাচন নিয়ে জামায়াত-এনসিপির টানাপোড়েন!
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০২:৩৪ এএম
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে আসন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে একসঙ্গে পথচলার ঘোষণা দিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও নেতৃত্বের প্রশ্নে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও দল দুটির নেতারা বলছেন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে কোনো সমন্বয়ের ঘাটতি বা টানাপোড়েন নেই।
সূত্র জানায়, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে চায় উভয় দলই। এ কারণে জাতীয় নির্বাচনের মতো ছাড় দেওয়ার মানসিকতায় নেই কেউ। বিশেষ করে মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে দল দুটির মধ্যে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা নিয়ে দুই দলের অবস্থান আলোচনায় আসে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি। পরে জামায়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে। এতে একই জোটের দুই দলের প্রার্থী ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় নানা আলোচনা। জামায়াত সাদিক কায়েমকে বেছে নেওয়ায় দুই দলের মধ্যে টানাপোড়েনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমের নাম ঘোষণা করা হয়। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। যদিও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম শিবিরে থাকাবস্থায় কোনো দলের হয়ে প্রার্থী হতে পারবেন না।
জামায়াতের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনে সমঝোতা থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভিন্ন বাস্তবতা। স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী নির্ধারণ করতে হবে। ফলে একাধিক এলাকায় জোটগত সমঝোতার চেয়ে দলীয় অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জামায়াত।
ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে লড়বেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, এটা নিয়ে নির্বাচনের পূর্বে সমঝোতা হবে। সব দল যার যার মতো করে প্রার্থী দেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা নিয়ে আলোচনা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অনেক কিছু বলে, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দায়িত্বশীল রাজনীতি হয় না।
জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে ১১ দলের যৌথ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। দলগুলো আলাদা আলাদা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো জোটের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। আমরা এককভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি দুই দলের (জামায়াত ও এনসিপি) মধ্যে সমঝোতা হয়, তাহলে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে। আর বোঝাপড়া না হলে পৃথকভাবে নির্বাচন হবে।
১১ দলীয় জোটের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ১১ দলীয় জোট দেশ গড়া ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ থেকে অনিয়ম দূর করে গণতন্ত্র ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে একটি সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফেরানোর লক্ষ্যে গঠিত। সুতরাং এই জোট থাকবে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ১১ দলীয় জোটের মধ্যে কোনো সমন্বয়ের অভাব নেই এবং এমন প্রশ্নই আসে না। জাতীয় নির্বাচন, অর্থাৎ সরকার গঠনের নির্বাচন যে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় আমরা সেই নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করব। আর বাকি (সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার) নির্বাচন যার যার অবস্থান থেকে করবে। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনা হবে সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেখানে যার যে অবস্থান রয়েছে, সেখান থেকেই অংশগ্রহণ করবে। এখানে জাতীয় প্রতীক থাকবে না, তাই জাতীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিতে ঐক্যের বিষয়টি আসবে না।