বিজ্ঞাপন
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া ডা. প্রিয়াঙ্কা, কে তিনি?
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
বিজ্ঞাপন
অবশেষে বহুল আলোচিত ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) দলের কেন্দ্রীয় ঘোষণার মাধ্যমে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়।
এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিয়াঙ্কা বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শেরপুর-১ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন।
তবে নির্বাচনকে ঘিরে তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তথ্য-উপাত্তসহ প্রেস ব্রিফিং করে বিষয়টি তুলে ধরেন।
এর আগে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রিয়াঙ্কা। সেই সময় তৎকালীন সরকার ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার গাড়িবহরে হামলা, নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়ার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রিয়াঙ্কা দাবি করেন, শেরপুরে রিটার্নিং অফিসার তার বিজয়কে ছিনিয়ে নিয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি শেরপুরের শহর, বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ, শ্রমিকের কর্মস্থল ও কৃষকের মাঠে নিয়মিত গণসংযোগ চালান। নির্বাচনে পরাজিত হলেও তিনি থেমে থাকেননি। সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পেতে ঢাকায় দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি এবার দলীয় মনোনয়ন পেলেন।
পেশায় চিকিৎসক এই তরুণী কেবল শেরপুরেই নয়, সারা দেশের বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। ডা. প্রিয়াঙ্কা শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হযরত আলী এবং নিলুফা দম্পতির কন্যা। তার স্বামী রাহেমীন চৌধুরী পেশায় একজন আইনজীবী। ২০১৮ সালে হযরত আলী কারাবন্দি থাকায় তার পরিবর্তে প্রিয়াঙ্কাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন।
উচ্চশিক্ষিত এই প্রার্থী এমবিবিএস পাশের পর লন্ডন থেকে এমআরসিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অনলাইন স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গেও যুক্ত।