Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

ভোটের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ‘হেভিওয়েট’ নেতারা এখন কেমন আছেন

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

ভোটের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ‘হেভিওয়েট’ নেতারা এখন কেমন আছেন

বিজ্ঞাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের কয়েকজন বড় নেতা। তাদের মধ্যে কয়েকজনের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।  কেউ ছিলেন দলের প্রধান, দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা কিংবা হেভিওয়েট নেতা। 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তারা নিজ দল বিলুপ্ত করে কিংবা পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তখন বিএনপিতে যোগ দেন শরিক দলের অন্তত আটজন প্রভাবশালী নেতা। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারা রাজপথেও সক্রিয় ছিলেন। কেউ কেউ নিজ দলের সঙ্গ ত্যাগ করে গুটিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন।

তবে বিএনপিতে যোগদানের প্রায় এক মাস পার হলেও এখনো তাদের অনেকেই কোনো দলীয় পদ বা দায়িত্ব পাননি। তাদের কেউ কেউ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি বৈতরণী পার হয়েছেন। বাকিরা হেরে গেছেন। যারা হেরে গেছেন তাদের কেউ কেউ আশা করছেন বিএনপি তাদের মূল্যায়ন করবে।  উচ্চ কক্ষে তাদের সদস্য করা হবে কিংবা দলে সম্মানজনক পদপদবি দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, বড় দলে যোগ দিয়েও তারা যেন এক ধরনের ‘পরিচয় সংকটে’ রয়েছেন। নির্বাচনের ব্যস্ততা শেষ হওয়ায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে তারা বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে বৈঠকের কথা ভাবছেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতারা

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপির সদস্য ফরম পূরণ করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন সাতজন নেতা। তারা হলেন—এলডিপির সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ, গণফোরামের সাবেক মহাসচিব ড. রেজা কিবরিয়া, এলডিপির (একাংশ) সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনডিপির সাবেক চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।

এদের মধ্যে হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচি হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট।

ফল অনুযায়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৫৫ হাজার ৮৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৫ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৪৩৭ ভোট।

ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। ধানের শীষ প্রতীকে ববি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। 

অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটে রিকসা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৩২০। ববি হাজ্জাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবু সাইয়িদ, যদিও তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি।

যোগদানকারী একাধিক নেতা জানান, বিএনপিতে অনেক পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও এখনো তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তবে দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং সম্ভাব্য কাউন্সিলের মাধ্যমে পদ পদবি নির্ধারণ হতে পারে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনি ব্যস্ততার কারণে নতুন যোগ দেওয়া নেতাদের বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি।

অন্যদিকে যোগ দেওয়া নেতাদের বক্তব্য, কঠিন সময়ে তারা বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন এবং আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এখন তারা অন্তত রাজনৈতিক মর্যাদা প্রত্যাশা করছেন। যোগদানের সময় পদ পদবি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগও ছিল না বলে জানান তারা।

দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ

বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজেদের দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। তারা আগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অংশ ছিলেন এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

সৈয়দ এহসানুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিজেদের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। মূল্যায়ন পাওয়ার প্রত্যাশা থাকতেই পারে।’

লেগে থাকতে চান রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় থেকেই বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সেই সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি বিএনপির সঙ্গে থেকেই রাজনীতি করার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, দল পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

ড. রেদোয়ান আহমেদ জানান, বিএনপিতে তার অবস্থান নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। রেদোয়ান আহমেদ এক সময় বিএনপি করতেন। তিনি ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে অলি আহমদের সঙ্গে এলডিপি গঠন করেন। 

অন্যদিকে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখনো দলীয় পদ নিয়ে ভাবেননি। তিনি জানান, তিনি নিজের দল বিলুপ্ত করেননি, জোটের অংশ হিসেবেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘুরে সর্বশেষ বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ড. রেজা কিবরিয়া। তার সমর্থকরা ধারণা করেছিল যে, তিনি মন্ত্রিসভায় থাকবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। এনডিএমের চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও দলীয় কোনো পদ এখনো পাননি।

সব মিলিয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই হেভিওয়েট নেতারা এখন দলীয় পদ ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছেন। সম্ভাব্য দলীয় কাউন্সিলের দিকেই তাকিয়ে আছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার