বিজ্ঞাপন
হলফনামার তথ্য
সম্পদের হিসাবে শীর্ষে যে ১০ প্রার্থী
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
বিজ্ঞাপন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার হয়েছে। মনোনয়নপত্র হাতে পাওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন, করছেন সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ।
নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৯৯৪ জন প্রার্থী।
এর মধ্যে ২৫৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী। প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, অন্তত ২৬ জন প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হালনাগাদ বাজারমূল্য বিবেচনায় মোট ৮৯১ জন প্রার্থী কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী সম্পদের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
তার ও তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের সম্মিলিত সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ৬০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মিন্টুর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ৫০৭ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০০ কোটি টাকার সম্পদ। তিনি হলফনামায় ব্যক্তিগতভাবে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার দেনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং একক ও যৌথভাবে তার নামে ২৮০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণের তথ্যও রয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী।
তার, তার স্ত্রী জামিলা নাজনীল মাওলা এবং কন্যা মেহরীন আনহারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৪৭৪ কোটি টাকা। তারা সবাই পেশায় ব্যবসায়ী এবং তাদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ৩৪৫ কোটি টাকার ঋণের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ আছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ময়মনসিংহ-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৯৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের নামে ৭ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
দম্পতি দুজনই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং তার নামে ১৫ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণের তথ্য পাওয়া যায়।
চতুর্থ অবস্থানে আছেন কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তার ও তার স্ত্রী নাজনীন আহমেদের সম্মিলিত সম্পদের বাজারমূল্য ২৯২ কোটি টাকা। হলফনামায় তাদের পেশা ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ থাকলেও তার নামে কোনো ঋণের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পঞ্চম স্থানে রয়েছেন টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর এবং তার স্ত্রী সুলতানা জাহানের সম্মিলিত সম্পদের বাজারমূল্য ২৮৩ কোটি টাকা।
ষষ্ঠ অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, যিনি বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ এই তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তার একক মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২৬২ কোটি টাকা। পাশাপাশি তার নামে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার দায় রয়েছে।
সপ্তম স্থানে রয়েছেন চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীন। তার ও তার স্ত্রী শাহনাজ শারমীনের সম্মিলিত সম্পদের বাজারমূল্য ২৪৯ কোটি টাকা। তারা দুজনই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, তিনি পূর্বে ঢাকায় অবস্থিত স্পেন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন।
অষ্টম অবস্থানে আছেন বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তার, তার স্ত্রী শাহনাজ সিরাজ এবং পুত্র আসিফ রাব্বানীর সম্মিলিত সম্পদের বাজারমূল্য ২০৪ কোটি টাকা। তাদের সবাই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং তার নামে ২৭ লাখ টাকার একটি ব্যাংকঋণের তথ্য রয়েছে।
নবম স্থানে রয়েছেন নোয়াখালী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯০ কোটি টাকা, যার মধ্যে তার স্ত্রী শামীমা আজিমের নামে রয়েছে ২১ কোটি টাকার সম্পদ। স্বামী-স্ত্রী দুজনই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
দশম স্থানে আছেন শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. শফিকুর রহমান কিরণ। তার সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ১৮৫ কোটি টাকা। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী এবং তার নামে দুটি ব্যাংকে ৪১ কোটির বেশি ঋণের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামার এই আর্থিক চিত্র ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে প্রার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থান ও আর্থিক দায়-দেনার একটি ধারণা পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন