Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

মাঠ কাঁপাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

মাঠ কাঁপাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

বিজ্ঞাপন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে আছেন আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদের মধ্যে অন্তত অর্ধশত জনপ্রিয় প্রার্থী আছেন, যারা সংশ্লিষ্ট আসনে বড় বড় দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন। জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহ করেছেন। এ জন্য নেমে এসেছে দল থেকে বহিষ্কারের খড়্গ।

আবার দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে সফল নেতাও রয়েছেন এ দলে। সাড়া জাগানো এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে না পারলেও অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সাবেক দলের প্রার্থীর ভরাডুবির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই মাঠ কাঁপানো কয়েক জনপ্রিয় প্রার্থীর সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে দেশবাসীর মনেও রয়েছে কৌতূহল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আছেন ২৯১টি আসনে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা দলগুলোকে আটটি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। কেবল কুমিল্লা-৪ আসনে মনজুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সেখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী নেই। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ১১৭ আসনে বিএনপির ১৯০ জন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কারও কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পরও ৭৯টি আসনে অন্তত ৯২ জন বিএনপির নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। কোনো কোনো আসনে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীও আছেন। যদিও বিদ্রোহীদের সবাইকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় অন্য নেতাদেরও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। কিছু জায়গায় বিলুপ্ত করা হয়েছে পুরো কমিটি।

সাইফুল আলম নীরব ॥ দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী হিসেবে ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। এখানে তিনি কোদাল প্রতীয় নির্বাচন করছেন। এ আসনে শুরুতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। কিন্তু সাইফুল হককে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েন নীরব। সমর্থিত নেতাকর্মীদের চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এ জন্য দল থেকে বহিষ্কৃতও হন তিনি। কিন্তু নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি। উল্টা বিজয়ী হলে ফুটবল মার্কার এ আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দেবেন ঘোষণা দিয়ে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সাইফুল আলম নীরব এবং সাইফুল হকের ভোট কাটাকাটির সুবিধা পেতে পারেন এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম খান মিলন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা মিলনের পক্ষে এ আসনে জোপর প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ॥ বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্ট্রার রুমিন ফারহানা এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসেনে হাঁস মার্কায় স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। বিএনপি এখানে মনোনয়ন দিয়েছে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে। তিনি সেখানে খেজুর গাছ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় রুমিনকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তিনি থামেননি। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। চ্যালেঞ্জ দিয়ে যাচ্ছেন জোটের প্রার্থীকে। রুমিন ছাড়াও এ আসনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, রুমিন-জুনায়েদের ভোট কাটাকাটিতে উক্ত আসনে অপেক্ষাকৃত দূর্বল এনসিপির প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। তবে নিজের বিজয়ের ব্যাপারে রুমিন ফারহানা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বলে জানা গেছে।

হাসান মামুন ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক জনপ্রিয় সভাপতি হাসান মামুন। তিনি ছিলেন বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী-৩ আসন নিজের মতো করে গুছিয়েছেন মামুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড সে আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূরকে মনোনয়ন দেয়। এতে বিক্ষুব্ধ মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দল তাকে বহিষ্কার করলেও দমেননি এই জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছেন দাবি করে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্বভাবিক কারণেই তীব্র চ্যালেঞ্জে পড়েছেন ট্রাক প্রতীকের জোট প্রার্থী নূর। বিশ্লেষকদের মাতে, এ আসনে নূরের চেয়ে হাসান মামুনের জনপ্রিয়তা বেশি। কিন্তু বিএনপি জোটের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট কাটাকাটির সুবাদে জামায়াত জোটের প্রার্থী সেখানে অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয়তা নিয়েও বেরিয়ে আসতে পারেন।

ডা. তাসনিম জারা ॥ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডাক্তার তাসনিম জারা। চব্বিশের গণঅভুত্থানে তিনি ছিলেন অগ্রসেনানি। দল গঠনের পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ পান এনসিপিতে। ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন দীর্ঘদিনের। দলও তাকে গ্রীন সিগন্যাল দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু জামায়তের নেতৃত্বাধীন জোটে এনসিপির অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় দল থেকে পদত্যাগ করেন জারা। শেষ পর্যন্ত তিনি ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্রভাবে। এনসিপি এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে দলটির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা জাবেদ মিয়া রাসিনকে। আর বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক জনপ্রিয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতজোটের ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করতে জোটের নেতাকর্মীরা রাসিনের শাপলা কলির পক্ষে সক্রিয় থাকলেও তাসনিম জারা ইতোমধ্যেই এ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেবেছেন। এই দুজনের ভোট কাটাকাটির সুযোগে ধানের শীষের হাবিব এ আসনে নিশ্চিত বিজয়ের পথে হাঁটছেন বলে তাদের অনুমান।

ইসহাক সরকার ॥ ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদকে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর ছাত্রদলের জনপ্রিয় নেতা মোহাম্মদ ইসহাক সরকার এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ আসনে। বিশ্লেষকদের মতে, ত্রিমুথি প্রতিদ্ধন্ধিতায় হামিদ-ইসহাকের ভোট কাটাকাটির ফল যেতে পারে জামায়াতের প্রার্থীর ঘরে।

এম এ এইচ সেলিম ॥ বাগেরহাট ১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিলভার সেলিম হিসেবে পরিচিত লাইন গ্রুপের কর্ণধার এম এ এইচ সেলিম। প্রচুর অর্থবিত্ত এবং সাবেক জেলা সভাপতি হিসেবে এলাকায় তিনি বেশ জনপ্রিয়। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করলেও পদ-পদবি না থাকায় দল তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সেলিমের পাশাপাশি বাগেরহাট-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য শেখ মাছুদ রানাও। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। বাগেরহাট-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান।

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠের প্রচারে সক্রিয় আছেন। এমতাবস্থায় নিজে জিনতে না পারলেও বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের অবস্থান নড়বড়ে করে দেওয়ার জন্য তারা যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও সিলভার সেলিমের দাবি, বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা কেউই জামায়াতের সামনে পাস করতে পারবেন না। কাজেই বিএনপির সিট রক্ষার জন্য, বিএনপির স্বার্থেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যাতে বিএনপির সিটগুলো না কমে। 

এস এ সিদ্দিক সাজু ॥ ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন মায়ের ডাকের প্রধান সানজিদা ইসলাম তুলি। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছে দীর্ঘদিন গুমের শিকার ব্যারিস্ট্রার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে। এ আসনে তুলি-আরমান দুজনই বেশ জনপ্রিয়। যদিও তুলির সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজু। তার পিতা এস এ খালেক ছিলেন ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য। সে কারণে পারিবারিকভাবে এই পরিবারের একটা প্রভাব ওই আসনে রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। স্বাভাবিক কারণেই সাজুর উপস্থিতিতে চাপে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী সানজিদা। বিশ্লেষকদের মতে, তুলি-সাজুর ভোট কাটাকাটিতে আসনটি শেষ পর্যন্ত মীর কাসেম আলীর পুত্র হাসিনার আয়নাঘর থেকে ৮ বছর পর ফিরে আসা মীর আরমানের ঘরে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি।

সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ॥ বিএনপি ঘাটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ-৪ আসন চষে বেড়াচ্ছেন দলটির বহিষ্কৃত নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হেয়েছেন তিনি। আসনটি বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে থাকলেও গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগকারী রাশেদ খানকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় শক্তিশালী ঘাটিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলের একাংশ রাশেদের পক্ষে কাজ করলেও ফিরোজ মাঠে আছেন অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে। এলাকাবাসীর মন্তব্য, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সংসার ত্যাগ করে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকা-ে সক্রিয়তা এবং মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে তিনি নিজ এলাকায় জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত। যদিও রাশেদ-ফিরোজের ভোট ভাগাভাগির সুবাদে ভোটের ফলাফল জামায়াতের প্রার্থীর ঘরে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

সালমান ওমর রুবেল ॥ ময়মনসিংহ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। একজন সবচেয়ে হেভিওয়েট প্রার্থী তিনি। যদিও কেন্দ্রীয় এই নেতার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল। এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তার রয়েছে বিপুল অর্থ। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবির ময়মনসিংহ জেলার সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান মুক্তা।

বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের মধ্যে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু জামায়াতজোটেরও রয়েছে বিশাল ভোটব্যাংক। এমতাবস্থায় প্রিন্স-রুবেলের ভোট কাটাকাটির সুযোগে জামায়াত প্রার্থী ফসল ঘরে তুললেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মনে করছেন ভোটাররা।

আবদুল মতিন খান ॥ কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার এক সময়ের এপিএস-২ মো. আবদুল মতিন খান। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে তিনি এখনো মাঠে সরব। স্থানীয় সূত্রমতে, বিএনপির পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা মতিনের পক্ষে মাঠে সক্রিয়। এর মধ্যে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ভোটাররা মনে করছেন, ভোটে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াই হবে। তবে একই ঘরানার ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেলে মাঝখান থেকে জামায়াত জোটের প্রার্থী উপকৃত হতে পারেন বলেও তাদের অনুমান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার