Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

আওয়ামী লীগ কি অস্তিত্ব সংকটে

আলজাজিরার বিশ্লেষণ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ এএম

আওয়ামী লীগ কি অস্তিত্ব সংকটে

বিজ্ঞাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বাধ্য হয়ে কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবেন, আবার কেউ যাবেন না। এমন পরিস্থিতিতে দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কিনা, তা নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

চব্বিশ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসে নাটকীয় মোড়। হাসিনা দেশ ছেড়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারতে পালিয়ে যান। এরপর আওয়ামী লীগকে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। শেখ হাসিনার প্রতিষ্ঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাঁর অনুপস্থিতিতে গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থক রাজবাড়ীর রিপন মৃধা বলেন, বাবার মুখে শুনেছি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আওয়ামী লীগের সংকটের কথা। এ বছর যা হচ্ছে, তা যেন দল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো।

গোপালগঞ্জের রিকশাচালক সোলায়মান মিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নৌকা ছাড়া নির্বাচন নির্বাচনই না। তাঁর পরিবার এবার ভোট দেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মনোভাব গোপালগঞ্জের বহু বাসিন্দার।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আরমান মনে করেন, আওয়ামী লীগ কৌশলগতভাবে নীরব রয়েছে। দলটি রাজনীতি থেকে মুছে যাওয়ার মতো নয়। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ফিরবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জবান পত্রিকার সম্পাদক রেজাউল করিম রনি অবশ্য ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে টিকে যাওয়া আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সমর্থকরা স্থানীয় বাস্তবতায় মানিয়ে নিয়ে অন্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে দলটির সমর্থনভিত্তিক পুনর্গঠন কঠিন হয়ে পড়বে। তার মতে, শেখ হাসিনাকে ছাড়া ভবিষ্যৎ কল্পনা করা যায় কিনা, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে বিভাজন স্পষ্ট। তাঁর দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনে অনেক সমর্থক হতাশ। এই অবস্থায় আগের জায়গায় ফেরা প্রায় অসম্ভব।

অন্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের দৃষ্টান্ত হতে পারে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে দলটি বহুবার নিষিদ্ধ ও দমন-পীড়নের শিকার হলেও টিকে গেছে। বর্তমানে জরিপ অনুযায়ী, জামায়াত তাদের ইতিহাসের সেরা নির্বাচনী ফলের দ্বারপ্রান্তে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের মতে, আওয়ামী লীগের আবেদন শুধু দলীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে প্রোথিত। পুরোপুরি মুছে যাওয়া কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের জরিপে এখনও প্রায় ১১ শতাংশ সমর্থন রয়েছে আওয়ামী লীগের।

এ বিষয়ে আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন পূর্ণ গণতান্ত্রিক নয়। তবে তিনি মনে করেন, দমন-পীড়নের কারণে দলটি অনেকের চোখে বৈধতা হারিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বংশানুক্রমিক দলগুলো সহজে মরে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরিস্থিতি বদলালে তাদের প্রত্যাবর্তন অসম্ভব নয়, তবে আপাতত দলটি কার্যত অচল।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার