বিজ্ঞাপন
জামায়াতের ১৭ আসনে জটিলতা, সুযোগ দেখছে বিএনপি
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ এএম
বিজ্ঞাপন
সংসদ নির্বাচনের আর ১৪ দিন বাকি। কিন্তু এখনও জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। ২৯৯ আসনে জামায়াত জোটের দলগুলোর ৩৮৪ প্রার্থী রয়েছেন। সমঝোতার মাধ্যমে এক শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া আসনেও রয়ে গেছেন অন্য শরিক দলের প্রার্থী। এ রকম অন্তত ১৭টি আসন নিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে জোটটি। আর সেটিকে সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
সমঝোতার সময় জোট শরিক ও মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আটটি আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রয়েছেন। আর ৯টি আসনে একাধিক শরিক দলের প্রার্থী রয়েছেন। এ আসনগুলোতে কারও প্রতি সমর্থন নেই জামায়াতের।
প্রার্থী বিশ্লেষণে দেখা যায়, শরিকদের ছেড়ে দেওয়া সাতটি আসন থেকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। যদিও পরে চারটি আসন থেকে জামায়াত প্রার্থীরা শরিক দলকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পর এই ঘোষণা আসায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীক থাকবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। শরিকদের ছেড়ে দেওয়া বাকি তিনটি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা ভোটের প্রচারে রয়েছেন। জোটের মধ্যে উন্মুক্ত রাখা ছয় আসনের চারটিতে জামায়াত প্রার্থী রেখেছে সমঝোতার ভিত্তিতে।
সমঝোতা হয়েছিল জামায়াত ২১৫, এনসিপি ২৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩, খেলাফত মজলিস ১৩, এলডিপি ৬, এবি পার্টি ৩, নেজামে ইসলাম পার্টি ২ এবং বিডিপি ২টি আসনে নির্বাচন করবে। চরমোনাই পীরের সম্মানে বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে না।
বাকি ছয় আসন উন্মুক্ত থাকবে। যেমন– অন্যান্য আসনে জোট হলেও ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াত এবং বাংলাদেশ খেলাফত– উভয় দলের প্রার্থী থাকবেন। মৌলভীবাজার-৪ আসনে এনসিপি এবং বাংলাদেশ খেলাফত– উভয় দলের প্রার্থী থাকবেন।
সমঝোতা ভেঙে প্রার্থী রেখেছে দলগুলো
এই সমঝোতায় উন্মুক্তসহ জামায়াতের ২১৯ প্রার্থী থাকার কথা। রিকশা প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফতের ৩৪, এনসিপির ৩০, দেয়ালঘড়ি প্রতীকে খেলাফতের ২১, এলডিপির ১২, নেজামে ইসলামের ৩, বিডিপির দুজন করে প্রার্থী রয়েছেন। উন্মুক্তসহ এবি পার্টি চারটি আসনে নির্বাচন করবে– এ সমঝোতা হলেও দলটির প্রার্থী রয়েছেন ৩০টি আসনে।
খেলাফত আন্দোলন এবং জাগপাকে আসন ছাড়া না হলেও দল দুটির আট এবং একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে যোগ দেওয়া লেবার পার্টির ১৫ প্রার্থী রয়েছেন। তারাসহ ১১ দলের ৩৮৪ প্রার্থী রয়েছেন। তবে এ দলটি ইতোমধ্যে জোটের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
লেবার পার্টি বাদে ৬৪ আসনে জামায়াত জোটের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। ৫৯ আসনে দুটি, চারটি আসনে তিনটি এবং একটি আসনে চারটি করে দলের প্রার্থী রয়েছেন। অনেকে নির্বাচন থেকে বসে পড়েছেন। তবে সমঝোতা হওয়া তিনটি আসন জামায়াত শরিকদের বিরুদ্ধে প্রার্থী রাখায় এবং অন্তত ৯টি আসনে দলগুলো সমঝোতা না মেনে প্রার্থী রাখায় বিরোধ তৈরি হয়েছে।
চারটি ছাড়লেও তিনটিতে জামায়াত
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলেও নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির সারোয়ার তুষার, নরসিংদী-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফতের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির শাপলা কলির জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং নায়ারণগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফতের মো. শাহজাহানের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন জামায়াত প্রার্থীরা।
তবে শরিক দল নেজামে ইসলামের মুজাম্মিল হক তালুকদারের ছেড়ে দেওয়া সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের তোফায়েল আহমেদ আছেন নির্বাচনে। শেষ দিনে সমর্থকরা তাঁকে তালাবদ্ধ করায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি বলে দাবি করা এই জামায়াত নেতা এখন বলছেন, এ আসনটি কেন্দ্রীয়ভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তাই তিনি নির্বাচন করছেন।
এলডিপির মোকফার উদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়া ভোলা-২ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ ফজলুল করিমও রয়ে গেছেন নির্বাচনী লড়াইয়ে। মাঠে না থাকা মোকফার উদ্দিন প্রতারণার অভিযোগ করেছেন।
খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলালকে ছেড়ে দেওয়া মৌলভীবাজার-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী আবদুল মান্নান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তাঁরও দাবি, সমর্থকদের অবরোধে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি। কিন্তু স্থানীয় জামায়াত খেলাফত মজলিসকে সমর্থন না করে দাঁড়িপাল্লার প্রচার চালাচ্ছে।
১২ আসনে এনসিপি বিপাকে
শরিকদের মধ্যে এনসিপিও বিপাকে রয়েছে। ১২টি আসনে এনসিপির শাপলা কলির বিরুদ্ধে জোটের কোনো না কোনো দলের প্রার্থী রয়েছেন। তবে জামায়াতের প্রার্থী নেই এনসিপির বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বেশি ছয়টি আসনে বাংলাদেশ খেলাফতের প্রার্থী রয়েছেন। দেয়ালঘড়ি প্রতীকের খেলাফতের প্রার্থী রয়েছেন তিনজন।
যেমন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে রংপুর-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফতের প্রার্থী রয়েছেন। আবার দলটির মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদকে ছেড়ে দেওয়া শরীয়তপুর-১ আসনে এনসিপির আবদুর রহমান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। যদিও এ আসনটি এনসিপির ভাগে পড়েনি।
সমঝোতায় এনসিপির আবদুল্লাহ আল-আমিনের ভাগে নারায়ণগঞ্জ-৪ পড়লেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি বাংলাদেশ খেলাফতের আনোয়ার হোসেন। নেত্রকোনা-২ আসন এনসিপির ফাহিম রহমান খান পাঠানকে ছাড়া হলেও খেলাফত আন্দোলনের আবদুর রহীম নির্বাচন করছেন।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেছেন, কেউ কেউ নানা কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। তবে আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান অধিকাংশ জায়গায় হয়ে গেছে। একক প্রার্থীর বাইরে থাকা অন্যরা সরে গেছেন।
কাকে সমর্থন দেবে জামায়াত
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত ও খেলাফত, নারায়ণগঞ্জ-৪ বাংলাদেশ খেলাফত ও এনসিপি, রাজবাড়ী-২ আসনে এনসিপি ও খেলাফত, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত ও খেলাফত এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত এবং এনসিপির প্রার্থী রয়েছেন। এ পাঁচটি ছাড়াও ৯ আসনে একাধিক দল প্রচারে রয়েছে।
জামায়াত কাকে সমর্থন দেবে স্পষ্ট করছে না। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবদুল হালিম সমকালকে বলেছেন, আসনগুলোতে যে দলের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, তাদের পক্ষে নির্বাচন করবে জামায়াত। যদি একাধিক দল থাকে, তবে কোন দলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি– তা বিবেচনা করে একজনকে সমর্থন করা হবে। শিগগির তা চূড়ান্ত হবে।
বিজ্ঞাপন