বিজ্ঞাপন
ছেলের জন্য বাবা, বাবার জন্য ছেলের ভোট চাওয়া; নজর কাড়ছে ভোটারদের
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখন সরগরম চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের পাড়া-মহল্লা, অলিগলি। ভোটারদের দোয়া-আশীর্বাদ নিতে ও নিজের প্রতীকে ভোটটি নিশ্চিত করতে দিনভর ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তাদের স্বজনরাও। তাদের কেউ নেমেছেন নিজের ছেলের জন্য, কেউ আবার নেমেছেন বাবার জন্য।
বিশেষ করে বাবার জন্য ছেলের এবং ছেলের জন্য বাবার ভোটপ্রার্থনা নজর কাড়ছে ভোটারসহ অনেকের। বিষয়টি চট্টগ্রামের ভোটের মাঠে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা।
ছেলের জন্য ভোটের মাঠে মীর নাসির
বিএনপির সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। দলের এই জ্যেষ্ঠ নেতা এবার চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে প্রার্থী না হয়ে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়েছেন ছেলে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের হাতে। তিনি দলটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। প্রচার শুরুর প্রথম দিন থেকেই ছেলের জন্য নেমেছেন সাবেক এই মন্ত্রী। ভোটারদের মাঝে ছেলেকে পরিচয় করে দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। ভোটারদের উদ্দেশে মীর নাসির বলেন, ‘ছেলে এবং আমি দুজনে মিলে আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করব ইনআশাল্লাহ। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে ছেলেকে জয়যুক্ত করুন।’
মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘বাবার মাধ্যমেই রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছে। ছেলে হিসেবে আমি গর্বিত, কারণ বাবা আমার জন্য নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। বাবার মতো আমিও মানুষের ভাগ্য বদলের রাজনীতি করব।’
হাটহাজারী পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, ভোটের মাঠে ছেলের জন্য বেশ সরব ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে সাবেক মন্ত্রী মীর নাসিরকে। বিষয়টি অনেক ভোটারের নজরও কাড়ছে।
‘আমার বাবা চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান’
চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি আসনের মধ্যে নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনটি। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন তাঁর ছেলে ইসরাফিল খসরুও। তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। বাবা পেয়েছেন ধানের শীষ, এখন ছেলে তাঁর পক্ষে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ইসরাফিল খসরু ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার বাবা এই চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান, সবার পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে বাবা পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করে আসছেন। আগামী নির্বাচনে বাবা নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তায় কাজ করে যাবেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি পরিবারকে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে।’
প্রার্থীদের জন্য মাঠে নারী স্বজনরাও
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদের প্রচারে মাঠে নেমেছেন একঝাঁক নারী; যেখানে প্রার্থীর স্বজনরাও রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় তারা নারী সমাবেশ, বৈঠকও করছেন নিয়মিত। তারা বলছেন, ‘সম্মান ও মর্যাদার বিবেচনায় নারীকে পুরুষের চেয়ে হীন বা নিচ মনে করা কোনোভাবেই ইসলাম স্বীকৃত নয়। আমাদের পরিচ্ছন্ন প্রার্থী ওয়াহেদ মুরাদ নির্বাচিত হলে নারী নির্যাতন, নিপীড়ন, ইভটিজিং ও যৌতুক বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
প্রার্থী ওয়াহেদ মুরাদ বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে ইসলাম সুনিশ্চিতভাবে সমুন্নত করলেও নারীরা অবহেলিত এবং বৈষম্যের শিকার। চেয়ার প্রতীকে ভোট দিলে এসব বৈষম্য দূর করতে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করব।’
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রার্থীদের প্রচারের যাবতীয় বিষয় তদারকি করতে একাধিক টিম কাজ করছে। প্রার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চালাবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বিজ্ঞাপন