বিজ্ঞাপন
ভোটের আগে যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় জামায়াত
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন কৌশলে নিজেদের সংগঠিত করছে, যা দেশের উদারপন্থি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এক দশকেরও বেশি সময় নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতার কারণে দীর্ঘকাল সমালোচিত এই দলটি বর্তমানে দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করে নতুন করে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জামায়াত তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির ইতিহাসের সেরা ফল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের এক জনমত জরিপ বলছে— জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং ভোটের লড়াইয়ে তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, তারা এখন গঠনমূলক এবং কল্যাণমুখী রাজনীতি করছেন। সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা, বন্যায় ত্রাণ এবং মেডিকেল ক্যাম্পের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ আমলের দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতির প্রতি মানুষের ক্ষোভ জামায়াতকে একটি 'নৈতিক বিকল্প' হিসেবে সামনে আসার সুযোগ করে দিয়েছে।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে জামায়াত এবার বেশ কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটি একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে অভ্যুত্থান পরবর্তী গঠিত জেনারেশন-জেড বা এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন করেছে তারা।
হাসিনা সরকারের প্রস্থানের পর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা আশঙ্কা করছেন যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ একটি কট্টর ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের দিকে ধাবিত হতে পারে।
তবে জামায়াত এসব সহিংসতার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত দাবি করেছে, তারা কোনো বিশেষ দেশের দিকে ঝুঁকে না থেকে সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ১৭৯টি আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া জামায়াত এখন পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে একটি বড় পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে।
বিজ্ঞাপন