Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

প্রথম দিনেই সরগরম নির্বাচনী মাঠ, কে কী বললেন

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম

প্রথম দিনেই সরগরম নির্বাচনী মাঠ, কে কী বললেন

বিজ্ঞাপন

তফসিল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হতেই দেশজুড়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। প্রতিশ্রুতি, রাজনৈতিক বার্তা, প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য আর জনসভা–পথসভায় অংশগ্রহণে প্রথম দিনেই সরব হয়ে উঠেছে নির্বাচনমুখী রাজনীতি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট থেকে বিএনপির প্রচার শুরু, মূল বক্তব্যে তারেক রহমান

নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিন সকালে সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঞ্চে ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ও দলীয় প্রার্থীরা।

জনসভায় তারেক রহমান দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড চালু, খাল খনন কর্মসূচি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষকে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

জাতীয় স্বার্থে আপসহীন অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ।” পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করে তারেক রহমান বলেন, ন্যায়বিচার, সততা ও মানবিকতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হলে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরবে।

নির্বাচনী বক্তব্যে তিনি প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীকে নাম উল্লেখ না করে ইঙ্গিত করে সমালোচনা করেন। মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মীয় ইস্যুতে কৌশলী বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অধিকার কোনো দলের নেই—এ ধরনের বক্তব্য মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

জনসভা শেষে ঢাকায় ফেরার পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সংক্ষিপ্ত জনসভায় অংশ নেন তারেক রহমান। এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

জামায়াতের ‘ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র’-এর প্রতিশ্রুতি

বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভার মাধ্যমে প্রচার শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় ঐক্য সরকার গঠিত হলে সুশাসন, ইনসাফ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হবে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মিলে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীর প্রতি কোনো সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।

সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অবসান ঘটবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে জনগণকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তব্যে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের কর্মীদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না, তারা দেশ পরিচালনার যোগ্যতা হারায়।

জনসভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির। একইভাবে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের প্রতীক হস্তান্তর করা হয়, যা উপস্থিত জনতার করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

এনসিপির ভিন্নধর্মী সূচনা, ‘দেশ পরিবর্তনের নির্বাচন’ বার্তা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কবর জেয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, এটি রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক সংস্কারের নির্বাচন। ১০ দলীয় ঐক্যজোটের বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি এনসিপির ৩০ জন প্রার্থীকে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “দুই হাজার টাকার কার্ড দিতে গিয়ে যদি আবার এক হাজার টাকা ঘুষ লাগে, তাহলে সেই কার্ডের মূল্য কী?”

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার