বিজ্ঞাপন
জামায়াতের হেভিওয়েটকে রেখে জোটের অচেনা প্রার্থী, জনমনে ক্ষোভ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় শক্ত অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থী এম. আব্দুল মান্নানকে বাদ দিয়ে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে খেলাফত মজলিসের আহমেদ বেলালকে।
যাকে স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষ ‘অচেনা’ হিসেবেই দেখছেন। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর থেকেই জোটের নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ এম. আব্দুল মান্নান স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন। সাধারণ ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তাকে ঘিরেই জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন সমর্থকরা।
অন্যদিকে, জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমেদ বেলাল সাধারণ মানুষের কাছে তার দল ও মার্কাসহ একেবারেই অপরিচিত। রাজনৈতিক মাঠে হঠাৎ করে ঘড়ি মার্কার এই প্রার্থীর আবির্ভাবে স্থানীয় ভোটাররা যেমন অবাক হয়েছেন, তেমনি প্রকাশ করেছেন চরম অসন্তোষ।
সমর্থকদের মতে, মাঠের জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব না দিয়ে ওপর মহল থেকে চাপিয়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত আসনটি প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দেওয়ার নামান্তর। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, আহমেদ বেলালকে আগে কখনো এলাকায় দেখা যায়নি এবং তার কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক তৎপরতাও ছিল না।
তাছাড়া তারা দাড়িপাল্লার বিপরীতে আহমদ বেলালের মার্কাকেও চেনেন না বলে অভিযোগ করছেন।। এমন পরিস্থিতিতে পরিচিত ও জনসম্পৃক্ত নেতা আব্দুল মান্নানকে সরিয়ে দেওয়ায় ভোটের মাঠে জোট বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার-৩ আসনে এই মনোনয়ন নাটকীয়তায় এখন সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটবিমুখ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, হেভিওয়েট প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে বাদ দিয়ে জোট যে ভুল করেছে, তার মাশুল হয়তো নির্বাচনের দিন দিতে হতে পারে।
এলাকার মোড়ে মোড়ে এখন একটাই আলোচনা- পরিচিত প্রার্থীকে রেখে কেন এই ‘অচেনা’ মুখে বাজি ধরল জোট। উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার ৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবেন এম নাসের রহমান।
মনসুর নগর ইউনিয়নের কদমহাটা সেন্টার কমিটির সেক্রেটারি শেখ পাবলু মিয়া বলেন, আমরা সেই শুরু থেকে কাজ করে আসছি মান্নান ভাইয়ের জন্য। মান্নান ভাই এখানের স্থায়ী বাসিন্দা, তিনি রাজনগরের মাটি ও মানুষের নেতা।
রাজনগরের মানুষ তাকে ছাড়া এখানে কাউকে চায় না। ১১ দলীয় জোট এমন নতুন একজনকে দিয়েছে, যার মার্কা ও নাম পর্যন্ত মানুষ জানে না। আমরা খুবই মর্মাহত ও আশাহত। এভাবে বিএনপিকে আসন ছেড়ে দেয়া উচিত হয়নি।
চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার নাজমুল হোসেন বলেন, "আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে আমাদের হাসানপুর গ্রামের প্রায় ভোটারই দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে অপেক্ষা ছিলেন।
কিন্তু ১১ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে না দিয়ে নতুন আরেকজনকে মনোনয়ন দিয়ে এ আসন বিএনপির কাছে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
মানুষ ব্যক্তির চেয়ে এখানে মার্কা চিনে। যখন মানুষ শুনেছে দাড়িপাল্লার মান্নান সাহেব নেই, তখনই আলোচনা শুরু হয়। মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলাবলি করছে, যেখানে দাড়িপাল্লা নেই, সেখানে ভোট সেন্টারে গিয়েই বা কি করবো।"
মনসুর নগর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার ইকবাল মিয়া বলেন, "আমরা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলাম, নিয়ত করে ফেলেছিলাম ভোট দেব দাঁড়িপাল্লায়। মন ভেঙে গেছে এখন, ভোটই দিব কি না ভাবছি।"
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা আমীর ফখরুল ইসলাম বলেন, "আমাদের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মান্নান ভাই মানুষের কাছে যেভাবে পৌছেছেন, মানুষ অপেক্ষমাণ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে। এখন মান্নান ভাই না থাকলে সাধারণ মানুষ মনে কষ্ট পাবে, যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।
জোট যাকে মনোনয়ন দিক না কেন, আমরা তার হয়েই কাজ করবো কিন্তু আমরা বছর ধরে কাজ করে দাঁড়িপাল্লার জন্য যে ঢেউ তুলেছিলাম, তা এই অল্প সময়ে নতুন মুখ জোটের প্রার্থী আহমেদ বেলাল সাহেবের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে আবার নতুনভাবে কাজ করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়াটা কষ্টসাধ্য হবে এমনকি চ্যালেঞ্জিংও হবে। সেটাও নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রাজনগর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিসবাউল হাসান বলেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আমরা বুঝতে পারছি। মানুষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার জন্য দীর্ঘ দেড় যুগ অপেক্ষা করছে।
আমরা সেভাবেই কাজ করে মাঠ তৈরি করেছি, মাঠ তৈরি করেছি। তবে এখানে আমাদের প্রার্থীকে না দিয়ে নতুন প্রার্থী যাকে দেয়া হয়েছে, সেটা জোটেরই সিদ্ধান্ত।
বিজ্ঞাপন