বিজ্ঞাপন
এই প্রথম দিল্লির এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিবেন শেখ হাসিনা
দ্য ওয়াল
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪০ এএম
বিজ্ঞাপন
দিল্লিতে থাকলেও গত দেড় বছরে তিনি কখনও ভারতের কোনও অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি হাজির হননি। আগামী শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই প্রথমবার শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভাষণ দেবেন।
২০২৪-এর ৫ আগস্ট থেকে দিল্লিতে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। দেশ ছাড়ার কয়েক মাস পর থেকেই তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশবাসী এবং আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন। হোয়াটস অ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং সিগন্যালের মত একাধিক প্লাটফর্মে তিনি নিয়মিত দলের তৃণমূল স্তরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া আওয়ামী লিগের ফেসবুক পেজের নিয়মিত অনুষ্ঠান দায়মুক্তিতে অংশ নেন শেখ হাসিনা। তবে কোথাও তিনি ক্যামেরার মুখোমুখি হন না।
এছাড়া দিল্লিতে থাকলেও গত দেড় বছরে তিনি কখনও ভারতের কোনও অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি হাজির হননি। আগামী শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই প্রথমবার শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভাষণ দেবেন।
দিল্লির অনুষ্ঠানটির আয়োজক ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রেসক্লাবস। দিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ার অফিসে সন্ধ্যায় বাংলাদেশের চলতি পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। তাৎপর্যপূর্ণ হল, আমন্ত্রণপত্রে উদ্যোক্তারা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অনুষ্ঠানটির আমন্ত্রণপত্র বিলি শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে কূটনৈতিক মহল মনে করছে ঢাকার তরফে ওই অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি আসতে পারে। মাসকয়েক আগে দিল্লিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা ছিল আওয়ামী লিগ নেতাদের। শেষ মুহূর্তে সেই সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করা হয়। পরে জানা যায়, দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন এই ব্যাপারে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে আপত্তি জানিয়েছিল। যদিও সরকারিভাবে প্রেস কনফারেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
দিল্লির প্রেসক্লাবের সেই প্রস্তাবিত সাংবাদিক বৈঠকের তুলনায় আগামী শুক্রবারের অনুষ্ঠানটি গুরুত্ব এবং তাৎপর্য অনেক বেশি শেখ হাসিনা থাকবেন বলে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয়টি জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে দিতে ভারত সরকারের কাছে আর্জি জানিয়ে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে খোদ দিল্লিতে কোন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল উপস্থিতি নয়া দিল্লির তরফে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দলের পাশে থাকার বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবারের অনুষ্ঠানে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ এ সিদ্দিক, সাবেক তিন মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, একে আব্দুল মোমেন এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া বক্তব্য রাখবেন অভিনেত্রী এবং সমাজকর্মী রোকেয়া প্রাচী এবং ফ্রান্সের কোট দ্য জুর ইউনিভার্সিটির সাম্মানিক ফেলো এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন ডিন অধ্যাপক এস এম মাসুম বিল্লাহ।
আর মাত্র ২৪ দিনের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের প্রাক্কালে দিল্লির অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল উপস্থিতির সিদ্ধান্ত ঘিরে কূটনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া হাসিনা এই অনুষ্ঠানে হাজির থাকার ব্যাপারে সায় দেননি। ওই দিনের অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দলের অভিমত তুলে ধরবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন