Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

১১ দলীয় জোট ভাঙনের নেপথ্য কারণ জানালেন ডা. ইসমাইল আযহারী

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

১১ দলীয় জোট ভাঙনের নেপথ্য কারণ জানালেন ডা. ইসমাইল আযহারী

বিজ্ঞাপন

১১ দলের ইসলামপন্থী জোটের ভেতরের নানা ঘটনা ও টানাপোড়েনের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ডা. ইসমাইল আযহারী। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা ড. আব্দুল্লাহ তাহেরের কিছু আচরণ ও সিদ্ধান্তের কারণেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) নিজেদের প্রতি রাজনৈতিক অসৌজন্যমূলক আচরণ মনে করে জোট ছাড়ার মনস্তাত্ত্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

ডা. ইসমাইল আযহারীর বর্ণনায়, প্রথম ঘটনা ঘটে যখন চরমোনাই পীর সাহেবের একটি প্রতিনিধি দল সমঝোতা বৈঠকের জন্য নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ড. আব্দুল্লাহ তাহেরের বাসায় গেলে, তাঁর পিএস প্রতিনিধি দলকে জানান যে তিনি আমীরে জামায়াতের সঙ্গে বাইরে বৈঠকে আছেন। অথচ ওই দিন তিনি বাসাতেই এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন বলে জানা যায়।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। তখন চরমোনাই প্রতিনিধি দল আবারও বৈঠকের জন্য ফোন করলে ড. তাহেরের পিএস জানান তিনি গুরুতর অসুস্থ। প্রতিনিধি দল অন্তত এক নজর দেখার অনুরোধ করলেও জানানো হয়, চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞায় কারও সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়।

তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি আসন সমঝোতা নিয়ে। আট দলের জোট থাকা সত্ত্বেও জামায়াত এককভাবে এনসিপিকে ৩০টি আসন দিয়ে দেয়, যা অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই করা হয় বলে অভিযোগ। ইসলামী আন্দোলন প্রথমে ৭২টি আসন দাবি করলেও পরে জামায়াতের অনুরোধে ৪০ আসনে নির্বাচনে সম্মত হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, ওই ৪০ আসনের মধ্যেই এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের আগেই সমঝোতা হওয়া ৭টি আসন রয়েছে। ফলে ইসলামী আন্দোলনের জন্য কার্যত আসন দাঁড়ায় ৩৩টি।

ডা. ইসমাইল আযহারী বলেন, এ অবস্থায় জামায়াত চরমোনাই প্রতিনিধিদের ওই ৭ আসনের সমঝোতা মেনে নিতে চাপ দেয়, যা ইসলামী আন্দোলনের আত্মমর্যাদায় আঘাত হানে। এই কারণেই তারা জোট ছাড়ার মানসিক সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি আরও বলেন, চরমোনাই ১০০ আসন চেয়েছে বলে যে মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে, সেটি জামায়াতের প্রচারণা। বাস্তবে সমঝোতা বৈঠকে তারা কখনো ১০০ আসন দাবি করেনি।

চতুর্থ ঘটনায় দেখা যায়, আল্লামা মামুনুল হক দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় জামায়াত সেখানে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু শাইখে চরমোনাই যে দুটি আসনে নির্বাচন করছেন, তার একটি আসনে জামায়াত তাদের প্রার্থী রেখে দেয়, যা নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়।

ডা. ইসমাইল আযহারী বলেন, জোট ভেঙে গেলে দোষ চরমোনাইয়ের ওপর চাপানো হলেও প্রকৃতপক্ষে ড. আব্দুল্লাহ তাহেরদের আচরণই এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ এ ধরনের আচরণের পর জোটে থাকতে পারে না।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জোট ভাঙলে জামায়াতকে ২৬০টিরও বেশি আসনে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। এতে বিএনপির ভোট এক বাক্সে গেলেও ইসলামপন্থীদের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হবে। ফলে প্রতি আসনে চরমোনাই যদি ২০ হাজার ভোটও পায়, সেটাই জামায়াতের পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ডা. ইসমাইল আযহারী আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন সংসদীয় রাজনীতিতে অতটা আগ্রহী নয়, তাই তাদের হারানোর কিছু নেই। কিন্তু জোট ভাঙার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে জামায়াতের। ‘এক বাক্স নীতি’ না থাকলে জামায়াত বড় সুবিধা করতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শেষে তিনি বলেন, “আমি মন থেকে চেয়েছিলাম এই নির্বাচনে অন্তত ইসলামপন্থী জোট ঐক্যবদ্ধ থাকুক। না হলে বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো শরিয়া নিয়ে স্বপ্ন দেখবে না। আল্লাহ পাক দুই দলের নেতৃবৃন্দের অন্তরে রহমত দিন, যেন তারা পরস্পরকে ক্ষমা করে ইনসাফের স্বার্থে আবার এক হয়ে যেতে পারেন।”

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার