Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

টানা আট মাস দেশের ভেতর যেভাবে পালিয়ে বেড়িয়েছেন আব্দুল মোমেন

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

টানা আট মাস দেশের ভেতর যেভাবে পালিয়ে বেড়িয়েছেন আব্দুল মোমেন

বিজ্ঞাপন

গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়েই দেশে অবস্থান করছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. একে আব্দুল মোমেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী-এমপির মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। এরপর টানা আট মাস দেশের ভেতরেই পালিয়ে থাকতে হয় তাকে।

ধরা পড়ার আশঙ্কায় একের পর এক বাসা বদল, মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করেছেন ছয়বার। নিজের চেহারাতেও এনেছিলেন বড় পরিবর্তন—রেখেছিলেন দাড়ি, বদলে ফেলেছিলেন স্বাভাবিক চালচলন। দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

প্রায় এক বছর অন্তরালে থাকার পর সম্প্রতি তিনি নিজেই মিডিয়ার সামনে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো নিজের আত্মগোপনে থাকার অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন ড. মোমেন। তবে কীভাবে তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন—সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে নারাজ তিনি। তার ভাষায়, “এখনো সে গল্প বলার সময় আসেনি।”

সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এবং কয়েক দিন আগেই দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয়।

আত্মগোপনে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. মোমেন বলেন, “এটা একটা সিনেমা হলে মন্দ হতো না। আমি দেশের শেষ দিককার মানুষদের একজন যে দেশ ছেড়েছি। আমি কোনো অন্যায় করিনি, কাউকে জেলে পাঠাইনি, কোনো দুর্নীতিও করিনি। তাই প্রথমে ভাবছিলাম—আমি কেন পালাবো? কিন্তু যখন নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা ফোন করে বললেন, ‘স্যার, আপনার নাম ছড়িয়ে গেছে, এখান থেকে সরে যান’—তখন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”

তিনি জানান, আত্মীয়স্বজনের বাসায় আশ্রয় নেননি, কারণ সবাই পরিচিত মুখ। বরং সাধারণ মানুষের ভাড়া বাসায় থেকেছেন। একাধিক ভাড়া বাসায় অবস্থান করে তিনি নজর এড়িয়ে চলেছেন। এমনকি চুল-দাড়ি কাটানোর ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন। নাপিত ডাকা হতো ভিন্ন বাসায়, যাতে কেউ বুঝতে না পারে তিনি কোথায় অবস্থান করছেন।

ড. মোমেন বলেন, “আমি মোবাইলে কথা বলতে পারতাম না। সব আয়োজন আমার স্ত্রী করেছেন। তার সাহস আর বুদ্ধিতেই শেষ পর্যন্ত বের হতে পেরেছি। দেশে অনেক দালাল আছে যারা বিদেশ পাঠানোর কথা বলে টাকা নেয়। আমি বেঁচে আছি মানুষের দোয়ায়। অনেকেই আমার জন্য দোয়া করেছে, হজ-ওমরাহ করেছে—আমি তাদের অনেককেই চিনি না।”

দেশ ছাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করার কোনো সুযোগই ছিল না। তার ভাষায়, “বিমানবন্দরের ধারে কাছেও যাওয়া সম্ভব ছিল না। বিভিন্নভাবে পালিয়ে বের হয়েছি। একদিন সব বলা যাবে। তবে এটুকু বলতে পারি—সরকারি পর্যায়ের কিছু মানুষ আমাকে সাহায্য করেছে।”

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে তিনি বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। আমি চাই না বাংলাদেশ কোনো উগ্রবাদী বা জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হোক। এ জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।”

ড. একে আব্দুল মোমেনের এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে তার দেশত্যাগের রহস্য এখনো অজানাই থেকে গেল।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার