বিজ্ঞাপন
নির্বাচন থেকে বিএনপির ৫ নেতা সরে দাঁড়ালেন
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক দলগুলোর সঙ্গে যেসব আসনে সমঝোতা হয়েছে, সেসব এলাকায় বিএনপির কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকায় দলটি চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। সাক্ষাতের পর তিনি একটি ভিডিও বার্তায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ভিডিও বার্তায় একরামুজ্জামান বলেন, ২০০৪ সাল থেকে টানা দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য জানিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দাখিল করা তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আমি আপনাদের কাছে দোয়াপ্রার্থী যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন আপনাদের পাশে থাকতে পারি। একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে এর আগেও একাধিকবার প্রার্থী হয়েছিলেন।
এর মধ্যে নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে লড়াই করে পরাজিত হন। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি)। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ-সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি মিত্র দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এমএ খালেকও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ এনে এমএ খালেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমএ খালেক। এই সাক্ষাতের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনসহ বিভিন্ন আসনে ‘বিদ্রোহীদের’ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এমএ খালেকসহ অনেক ‘বিদ্রোহী’ তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। এ আসনে তার জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দলটির সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। আঙ্গুরকেও শুক্রবার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দলের চেয়ারম্যান কথা বলেছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সৃষ্ট জাতীয় শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ রাজনৈতিক আনুগত্য রেখে আমি আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মিজানুর রহমান চৌধুরী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ছাতক উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। মিজানুর রহমান চৌধুরী তার ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তার আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমি আপনাদের ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। কিন্তু আমার শ্রদ্ধেয় অভিভাবক বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব আমাকে গতকাল (৯ জানুয়ারি) তার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দল ও দেশের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন। আপনাদের ভালোবাসা ও আবেগ আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবুও দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকের অনুরোধ উপেক্ষা করে আমার জন্য অনেক কঠিন। এমতাবস্থায় আমি আমার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জানি আমার এ সিদ্ধান্তে অনেকেই মনে কষ্ট পাবেন, বিরক্ত হবে। কারণ ইতিমধ্যে আমার জন্য আপনারা অসম্ভব ত্যাগ শিকার করেছেন। আমি আপনাদের সীমাহীন ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। দেশ ও দলের এই ক্রান্তিলগ্নে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছি।
বিজ্ঞাপন