বিজ্ঞাপন
জনগণের টাকায় নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত মনীষা
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী।
বরিশালে ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ডা. মনীষা চক্রবর্তী একজন এমবিবিএস পাস চিকিৎসক এবং বর্তমানে বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিম্নআয়ের মানুষ, শ্রমজীবী ও বস্তিবাসীদের চিকিৎসাসেবা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, “আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। তাই নির্বাচনও হতে হবে জনগণের টাকায়। আজ অনেকেই কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন করে পরে সেটিকে ‘ইনভেস্টমেন্ট’ হিসেবে আদায় করতে গিয়ে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে। আমরা সে রাজনীতি করি না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো কোটিপতির কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চাই না। আমাদের দায়বদ্ধতা সাধারণ মানুষের কাছে। সৎভাবে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মতোই সৎভাবে নির্বাচন করতে চাই।”
এ লক্ষ্যেই তিনি চালু করেছেন ব্যতিক্রমী ‘মাটির ব্যাংক’ কর্মসূচি। নগরীর বিভিন্ন দোকান, রিকশার গ্যারেজ ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলে স্থাপন করা হয়েছে মাটির ব্যাংক। যেখানে শ্রমিক ও কৃষকরা দৈনিক আয় থেকে ৫ বা ১০ টাকা করে অনুদান দিচ্ছেন। ডা. মনীষা বলেন, “এই ক্ষুদ্র সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তার দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, ডা. মনীষা চক্রবর্তীর বার্ষিক আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ রয়েছে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩৮ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬৯৪ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৯২৮ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলার মধ্যে একটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন এবং অপর মামলাটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। উল্লেখ্য, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমবিবিএস পাস করার পর তিনি ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তবে সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে তিনি দরিদ্র মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
ডা. মনীষা চক্রবর্তীর জন্ম বরিশাল নগরীর শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেনের পৈত্রিক বাড়িতে। তার বাবা তপন কুমার চক্রবর্তী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী। তার দাদা বিশিষ্ট আইনজীবী সুধীর কুমার চক্রবর্তী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় স্থানীয় রাজাকারদের হাতে নিহত হন। শৈশব থেকেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ডা. মনীষা চক্রবর্তী লেখক ও নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার সান্নিধ্যে বড় হন। মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নকালেই তিনি বাসদের রাজনীতিতে যুক্ত হন। বর্তমানে শ্রমিক ও বস্তিবাসীদের কাছে তিনি ‘দিদি’ নামে পরিচিত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন