Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

আসন সমঝোতায় বিএনপিতে ‘অবিশ্বাস’, জামায়াতে ‘বিভক্তি’

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

আসন সমঝোতায় বিএনপিতে ‘অবিশ্বাস’, জামায়াতে ‘বিভক্তি’

বিজ্ঞাপন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে দুই প্রধান জোট—বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ একাদশ দলীয় জোট—এর মধ্যে টানাপোড়েন এবং বিভাজন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আসন সমঝোতা ও মনোনয়ন প্রসঙ্গে উভয় জোটের মধ্যে সংকট দেখা দিয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালির কিছু আসনে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিদ্রোহী প্রার্থী সমর্থন প্রদর্শনের ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বরিশাল সদর আসনের চরমোনাই ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং জামায়াতের প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলালের মধ্যে আসন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন মনে করছে, চরমোনাই পীরের মূল কেন্দ্র হিসেবে এই এলাকায় তাদের রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে, সেখানে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়াটা দলীয় সম্মান বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত নয়।

জামায়াতের যুক্তি হলো ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ এবং বরিশাল-৬ উভয় আসনে প্রার্থী হয়েছেন, ফলে তাকে একটির মধ্যে নির্বাচনী মনোনয়ন নিতে হবে। “আমরা বলেছি একটি আসন নিন। বরিশাল-৬ আসনটি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একজন প্রার্থীকে দুটি আসনে দেওয়াটা দলীয় প্রথার পরিপন্থী,” জানান জামায়াতের নেতা।

অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটেও সমস্যা রয়েছে। পটুয়াখালির গলাচিপা ও দশমিনা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা বরাবর বিএনপি-সহযোগী বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পাশে রয়েছেন। হাসান মামুন দল থেকে বহিস্কৃত হলেও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় নেতারা জানান, “দলীয় মনোনয়ন ভুল হওয়ায় জনগণের মধ্য থেকেই নেতা বেরিয়ে এসেছে। এখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরাই মূলত তার পক্ষে কাজ করছেন।”

বিএনপি জানিয়েছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় এখনও বাকি। যারা দাঁড়িয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। আশা করছি বিষয়টি সমাধান হবে।” তবে দলীয় শরীকরা সন্তুষ্ট নন। শঙ্কা রয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ী হলেও দলে ফেরার ক্ষেত্রে অবহেলা বা পুনর্ভূক্তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ এগার দলীয় জোটের আসন বণ্টনও জটিলতায় আছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন অন্তত একশত আসন পেতে চায়। সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, “একশত আসন বা তার কাছাকাছি সংখ্যা না হলে আসন বণ্টন আমাদের জন্য সম্মানসূচক হবে না। এর চেয়ে কম হলে জোট টিকবে কি না, সন্দেহ আছে।”

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার