বিজ্ঞাপন
জামায়াত জোট ভোটে জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, যা বললেন আখতার
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ এএম
বিজ্ঞাপন
জামায়াতে ইসলামীর জোটের সঙ্গে এনসিপি ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সরকার গঠনের বিষয়গুলো নিয়ে এখনো ফয়সালা হয়নি আমাদের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।
জোটের আলোচনায় এনসিপি কয়টি আসন পাচ্ছে—এমন প্রশ্নে আখতার বলেন, আসন বিন্যাস নিয়ে আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হইনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তখন জানা যাবে; কতটি আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনের সময়টা আমরা পার হতে চাই এবং আমাদের বর্তমান যে আলোচনাগুলো করছে সে আলোচনার প্রেক্ষাপটে আমরা এই সিদ্ধান্তগুলো সামনের দিনে নেওয়া হবে।
রোববার বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বিচার, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং আধিপত্যবাদমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশের প্রয়োজনে জামায়াত জোটের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কারের বিষয়গুলোতে বিএনপির সাথে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতভিন্নতা দেখা দিতে দেখেছি। সেক্ষেত্রে এনসিপি ও জামায়াতের সংস্কারের প্রশ্নে এক ধরনের ন্যাচারাল এলাইন তৈরি হয়। যেহেতু বাংলাদেশের সংস্কার বাস্তবায়ন করা এনসিপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং আমরা বাংলাদেশকে আগের জায়গায় ফিরে যেতে দিতে চাই না, সে কারণেও এককভাবে না থেকে বরং আরো শক্তিশালীভাবে আরো অনেকের সঙ্গে একত্রিত হয়ে সামনের নির্বাচনের বৈতরণী পার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, আজকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধিদের সাক্ষাতে আমাদের দলের পক্ষ থেকে এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। এনসিপি-জামায়াত জোটের মাধ্যমে ১১ দল নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চায়, জোট গঠনের প্রেক্ষাপটসহ সমস্ত কিছু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের কাছে ব্যাখ্যা করা হলে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে জনগণের যেকোনো সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা তাদের কাছে বর্তমান নির্বাচনের পরিস্থিতি, নির্বাচন আগে আইন পরিস্থিতি একেবারে তলানিতে থাকা এবং পরবর্তীতে হাদি হত্যা, গতকালও একজনকে খুন করা হয়েছে। এই যে খুনের ছড়ি, আওয়ামী লীগে, ছাত্রলীগের গুণ্ডাদের কাছে এখনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হাদির খুনীদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এই পুরো পরিস্থিতির পাশাপাশি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পারবে কিনা? সেই ব্যাপারগুলোতে আমরা আমাদের কনসাস তাদের কাছে তুলে ধরেছি।
এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও শরিফ উসমান হাদির শাহাদাতের ঘটনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখছি, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো বাংলাদেশকে কবজা করে রাখতে, পরাধীনতার শৃঙ্ক্ষলা রাখতে চাইছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসররা শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং তারা জুলাইযোদ্ধাদের টার্গেট কিলিংয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আখতার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সংস্কারের প্রশ্নে ঐকমত্য কমিশনে আমরা জোরালো ভূমিকা রেখেছি। এনসিপির সংস্কারের পক্ষে এই অবস্থানকে জনগণ ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। কিন্তু সেই সংস্কারের বিষয়গুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হবে বা না হবে সেটি এনসিপির একার পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমরা চেয়েছিলাম বিএনপি-জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দল একটা নতুন বন্দোবস্তোর দিকে অগ্রসর হবে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জায়গায় উন্নত করবে। সংস্কারের ম্যান্ডেটগুলোর সঙ্গে তারা এলাইন করবে, বিনা বাক্যে গ্রহণ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র নতুন করে গঠনে ভূমিকা রাখবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের চলমান বিচারকেও নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করার এক ধরনের প্রবণতা রয়েছে। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিতার উন্নত করার যে স্বপ্ন আমরা দেখি— সেটা বাস্তবায়ন করতে হলে এনসিপির সাথে আরো অনেক রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক থাকার কথা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্বার্থে এনসিপি দুই দেশের ধারাবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখা এবং সেটাকে আরো ভালো জায়গায় নিয়ে গিয়ে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে বিদেশ নীতি সাজাতে পারি, সে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা খোলাখুলি কথাবার্তা বলেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঘটনায় আমরা মনে করি, পৃথিবীর যেকোনো দেশকেই আন্তর্জাতিক রীতিনীতি, আইনগুলো মেনে চলতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই পৃথিবীর শাসনের সাথে যুক্ত দেশগুলোকে রাজনৈতিক কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করতে হবে। … রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন