জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের টানাপোড়েন, যা বললেন মুফতি ফয়জুল করীম
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ জানুয়ারি। অথচ ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জোটে এক ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম মনে করেন, সমস্যা থাকলেও সমাধান হয়ে যাবে।
১১ দলের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন পর্যন্ত চলে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা। ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমঝোতায় সব দলের সঙ্গে আসন বণ্টন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হলেও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন ছিল ব্যতিক্রম। তারা ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে-জামায়াত ১১০টি আসনে ছাড় দিয়ে ১৯০টি আসনে নিজ দলের প্রার্থী রাখতে রাজি হয়। শরিকদের মধ্যে খেলাফত মজলিশ ১৫টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ১০, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ৩, খেলাফত আন্দোলন ৪ এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য রাখা হয় ৩৫টি আসন। নতুন করে এই জোটে যোগ দেওয়া এনসিপি ৩০টি, এলডিপি ৩টি এবং লেবার পার্টিকে দেওয়া হয় ৩টি আসন।
১১ দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর কষাকষি করছে ইসলামী আন্দোলন। তাদের ৩৫টি আসন দেওয়ার কথা ৮ দলের বৈঠকে চূড়ান্ত হলেও দলটি তা মানতে এখন পর্যন্ত রাজি হচ্ছে না। সূত্রমতে, দলটির দাবি ন্যূনতম ১২০ আসন। দলটির নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম প্রকাশ্যেই আরও বেশি আসন প্রাপ্তির কথা বলেছেন। ১৪৩ আসন দলটির এ গ্রেড বলে দাবি করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বরাত দিয়ে এমন তথ্যও এসেছে যে, সম্মানজনক আসন না পেলে জামায়াতকেই জোট থেকে বের করে দেওয়া হবে। তার দাবি-জোট করেছি আমরা, জামায়াত তো করেনি। তারা এত আসন নেবে কেন? তারা আর আমরা তো সমান।
ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য রয়েছে। তবে তা সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা জোটের বড় দল অথচ এনসিপিসহ তিনটি নতুন দল জোটে এলেও ৮ দলের সঙ্গে তাদের কোনো সভা হয়নি। সভা হয়েছে শুধু জামায়াতের সঙ্গে। অথচ সভা হওয়ার কথা ছিল ৮ দলের সঙ্গে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুরে এক নির্বাচনি সভায় বৃহস্পতিবার বলেন, আমাদের মধ্যে এখনো আলাপ-আলোচনা চলছে। আসন সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, সমস্যা যাই থাকুক সমাধান হয়ে যাবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগের দিন পর্যন্ত সময় আছে। ২-১ দিনের মধ্যে লিয়াজোঁ কমিটির কোনো বৈঠকও নেই বলে জানান এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, সমঝোতায় না পৌঁছার কোনো সুযোগ নেই। জোটে না থাকলে কি হবে তা সবাই জানে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১১ দলের আরেক শীর্ষ নেতা বলেন, যারা কোনোদিন সংসদে একটি আসনও পায়নি তারা কিভাবে দেড়শর কাছাকাছি আসন দাবি করতে পারে তা বুঝতে পারি না। তারা আলাদা নির্বাচন করলে কটা আসন পাবে তা কি তারা ভেবে দেখেছে? তিনি আরও বলেন, জোটে থাকতে হলে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। আশা করি ইসলামী আন্দোলন ফিরে আসবে।