Logo
Logo
×

রাজনীতি

মায়ের অনুপস্থিতিতে বিএনপির হাল ধরতে তারেক রহমান কতটা প্রস্তুত?

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

মায়ের অনুপস্থিতিতে বিএনপির হাল ধরতে তারেক রহমান কতটা প্রস্তুত?

বেগম খালেদা জিয়ার অবর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা তারেক রহমান কতটা দক্ষতার সঙ্গে পূরণ করতে পারবেন—এই প্রশ্ন এখন রাজনীতির অন্দরমহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আলোচনায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময়ের সংগ্রাম, ত্যাগ এবং দূর থেকে দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা তারেক রহমানকে একজন পরিণত রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তুলেছে। তবে তার নেতৃত্বের চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনও সময়ের অপেক্ষায়।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান ছিল না হঠাৎ কোনো ধূমকেতুর মতো। এক প্রতিকূল রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্যাতন ও চাপের মুখে তাকে দেশ ছাড়তে হলেও, সেই প্রবাসজীবন থেকেই তিনি দলকে সংগঠিত ও পরিচালনা করে গেছেন। বিদেশে অবস্থান করেও একক সিদ্ধান্ত ও সরাসরি নির্দেশনার মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখার অভিজ্ঞতা তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

মায়ের মৃত্যুর পর তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে একা হয়ে পড়েছেন কি না—এমন প্রশ্নও উঠছে। কারণ অতীতের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তার সবচেয়ে বড় ভরসা ও পরামর্শদাতা। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও ব্যক্তিগত চাপের সময় তিনি মায়ের ছায়াতেই এগিয়ে গেছেন।

এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। একদিকে বিএনপির মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব, অন্যদিকে সামনে জাতীয় নির্বাচন—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সামনে এক বড় পরীক্ষার সময়। বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে তার রাজনৈতিক পরিণত হওয়ার প্রমাণ দেওয়ার সুযোগও এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারেক রহমানের অভিজ্ঞতার পরিসর প্রায় তিন দশকের কাছাকাছি। একজন ব্যক্তি হিসেবে দল পরিচালনার সক্ষমতা তার রয়েছে। তবে নেতৃত্বের দক্ষতা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারেন, তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বাস্তবতাই নির্ধারণ করবে।

২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই কার্যত বিএনপির নেতৃত্বে সামনে আসেন তারেক রহমান। যদিও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের শুরু আরও আগে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীসভা এবং নেতাকর্মীদের তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরির উদ্যোগও ছিল তার।

এই মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বিদেশে থেকে দল পরিচালনার দক্ষতা এবং বর্তমানে দেশে ফিরে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার বাস্তবতা—সব মিলিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের মতে, দীর্ঘ সংকটের পর বিএনপি এমন এক রাজনৈতিক সুযোগের মুখোমুখি হয়েছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারলে তা শুধু দলের জন্য নয়, তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও হতাশার কারণ হতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার