Logo
Logo
×

রাজনীতি

স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের যে বার্তা দিল বিএনপি

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের যে বার্তা দিল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির শতাধিক নেতা বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপি ঘোষিত দলীয় ও জোটের প্রার্থীদের বিপরীতে নির্বাচনে নামায় এসব নেতাকে ঘিরে দলটির ভেতরে অস্বস্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়া এসব নেতা ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় জোরালো প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে বিএনপি।

এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ নয়জন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ছাড়াও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আব্দুল খালেককে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত হয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ চাকসু মামুন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, তাঁদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হবে। নির্দেশ অমান্য করলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য না করার বিষয়ে তিনি সতর্কও করেন। তবে তাঁর নির্দেশনার পরও ব্যাপকভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অনেকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে আসেনি। ধাপে ধাপে জানা যাবে কোন আসনে কতজন প্রার্থী হয়েছেন। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দেশের প্রায় সব বিভাগেই বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও চট্টগ্রামের একাধিক আসনে বিএনপির বর্তমান ও সাবেক নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।

বিএনপির ভেতরে এই বিদ্রোহী প্রার্থিতা শেষ পর্যন্ত কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কতটা বজায় থাকে, সেটিই এখন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার