Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

মতামত

পাঠ্যবই থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাতিল এবং মুক্তিযুদ্ধের নতুন বয়ান

Icon

আমীন আল রশীদ

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৬ এএম

পাঠ্যবই থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাতিল এবং মুক্তিযুদ্ধের নতুন বয়ান

বিজ্ঞাপন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে যুক্ত করা হয়েছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’। এর আগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত সব পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। চলতি শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের সব পাঠ্যবইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’র পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখা হয়েছে।

এনসিটিবির বরাতে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লিখিত নির্দেশনা পায় এনসিটিবি। পরে সেই অনুযায়ী সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ের ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’ শীর্ষক তৃতীয় অধ্যায়ের ‘পাঠ–২: ৭ই মার্চের ভাষণ’-এ সাতটি স্থানের মধ্যে ছয়টিতে ‘বঙ্গবন্ধু’-এর পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখা হয়েছে। তবে একটি স্থানে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি রয়ে গেছে। (ইত্তেফাক, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫)।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অভিযুক্ত অন্যান্যদের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পান। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আয়োজিত জনসভায় তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হলে বঙ্গবন্ধু শব্দটি তার নামের অংশ হয়ে যায় এবং কিছু ব্যতিক্রম বাদে দলমত নির্বিশেষে সকলেই বঙ্গবন্ধু নামেই তাকে সম্বোধন করেন। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পরে এই অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা তরুণরা বঙ্গবন্ধু শব্দের পরিবর্তে তাকে শেখ মুজিব, এমনকি তাচ্ছিল্যের সঙ্গে শুধু মুজিব বলে অভিহিত করতে থাকেন।

প্রশ্ন হলো, যে শেখ মুজিবুর রহমান গত অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে বঙ্গবন্ধু নামে পরিচিত হয়েছেন, সম্বোধিত হচ্ছেন, ওই বঙ্গবন্ধু শব্দটি বাদ দিয়ে সরকার কী অর্জন করতে চাইল? তারা এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের কি এই বার্তা দিতে চাইল যে, বঙ্গবন্ধু শব্দটি উচ্চারণ করা যাবে না? অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু বললে তিনি যেহেতু মহীয়ান হয়ে ওঠেন বা তিনি দেশের অন্য যে কোনো নেতার চেয়ে উচ্চ আসনে আসীন হয়ে যান, ওই হীনমন্যতাবোধ থেকে সরকার যে বিশেষ একটি গোষ্ঠীর চাপে পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধু শব্দটি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে—তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আরও যে লক্ষ লক্ষ বইতে বঙ্গবন্ধু শব্দটি আছে, তার কী হবে? সরকার কি চাইলেও সেগুলো মুছে দিতে পারবে বা সব বই পুড়িয়ে দিতে পারবে?

শুধু বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দেওয়াই নয়, ১৯৭১ ও মুক্তিযুদ্ধের নতুন বয়ান প্রতিষ্ঠারও একটা প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের পরে। সাম্প্রতিক কয়েকটি সংবাদ শিরোনামে চোখ বুলানো যাক।

১. পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে, মানতেই রাজি নন চবি উপ-উপাচার্য শামীম। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫।

২. মুজিব বাহিনীর ‘গণহত্যার’ জবাবেই পাকিস্তানের ‘ক্র্যাকডাউন’: জামায়াত নেতা নজরুল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫।

৩. জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ভারতের বিরুদ্ধে: মুফতি আমির হামজা। কালের কণ্ঠ, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫।

৪. নিজামী ও গোলাম আযমকে ‘সূর্যসন্তান’ বললেন শিবির নেতা, প্রতিবাদ ছাত্রদলের। প্রথম আলো, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫।

৫. বিসিএস প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধ ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’, পাক বাহিনী ‘দখলদার বাহিনী’। দেশ ‍রূপান্তর অনলাইন, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫।

৬. শেখ মুজিব বিশ্বাসঘাতক: ব্যারিস্টার শাহরিয়ার। যমুনা টেলিভিশন, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫।

বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন একাত্তর সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্মদান। কিন্তু এই অর্জনকে খাটো করা বা এই সংগ্রাম এবং এর সঙ্গে যুক্ত মানুষদের হেয় করার প্রবণতা নতুন কিছু নয়।

১৯৭৫ সালের পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের এমন সব বয়ান জনপরিসরে ছাড়া হয়েছে; মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিষয় নিয়ে এমন সব বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, যা এই যুদ্ধে আত্মদানকারী লাখ লাখ মানুষ এবং এই যুদ্ধের সম্মুখসারিতে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তরে বিষাক্ত তীরের মতো বেঁধে। এইসব বয়ান এবং বিতর্কের মধ্য দিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি তাদের ভূমিকা বা তাদের অপরাধ আড়াল করতে চায়, সেটি সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষেরই বোঝার কথা।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, চব্বিশের জুলাইয়ে একটি অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যখন গণতন্ত্র ও সুশাসনের ব্যাপারে একটা জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, ঠিক ওই সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পুরোনো বয়ান ও বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়গুলোকে অনেক বড় আকারে সামনে আনা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ ও মু্ক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানিত করার নানা উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে—যেসব বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততাও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসকে বিকৃত করার এই বয়ানের যুদ্ধ মোকাবিলা আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের রূপ ধারণ করছে।

সম্প্রতি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং মহান বিজয় দিবস সামনে রেখে এমন সব বয়ান হাজির করা হয়েছে, যা গত অর্ধ শতাব্দী ধরে একাডেমিক ও জনপরিসর চর্চিত ইতিহাসকেই চ্যালেঞ্জ করছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এসব মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে যেরকম শক্ত অবস্থান নেওয়াটা প্রত্যাশিত ছিল, দুঃখজনকভাবে তা অনুপস্থিত। তাতে অনেকের মনে হতে পারে, এসব বিতর্কে হয়তো সরকারেরও সমর্থন আছে। যদিও গত ৭ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস’ তুলে ধরার তাগিদ দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে পক্ষপাতহীনভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।

প্রশ্ন হলো, মুক্তিযুদ্ধের ‘প্রকৃত ইতিহাস’ মানে কী এবং সেটা কে লিখবে? এতদিন যা লিখিত হয়েছে তার সব কি ভুল? হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে যে স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছে; মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অনেকে যেমন রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমরা মুক্তিযুদ্ধের যেসব বই লিখেছেন; ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা যা লিখেছেন; আফসান চৌধুরীর মতো গবেষকরা প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে যেসব বই লিখেছেন—তার সব মিথ্যা? এমনকি গত ৫৪ বছর ধরে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বইপত্র এবং সরকারি বিভিন্ন ডকুমেন্টেও মুক্তিযুদ্ধের যেসব ইতিহাস লিপিবদ্ধ আছে এবং রাজনৈতিক কারণে দুয়েকটি বিতর্কিত বিষয় বাদ দিলে যে ইতিহাস সর্বজনগ্রাহ্য; মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ মানুষ, একাডেমিশিয়ান ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধারাও যেসব ইতিহাসের ব্যাপারে একমত—ওই ইতিহাস বদলে দিতে চায় কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী?

অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পরে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেখক ও তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর (মৃত্যু ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বলেন, “১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক-প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয়নি। যেটা লেখা হয়েছে সেটা হলো সরকারি ভাষ্য, যা লেখা হয়েছে সেটা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মিথ্যা।”

দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বদরুদ্দীন উমর মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের ভূমিকাসহ নানা বিষয়ে তার বিশ্লেষণ তুলে ধরলেও তার এই দুটি লাইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে বছরের পর বছর ধরে যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার মিশনে আছে, তারা বদরুদ্দীন উমরের এই কথাগুলোকেই বাজারজাত করতে থাকে। অর্থাৎ পুরো সাক্ষাৎকারের এই ছোট অংশটি মূলত চিহ্নিত একটি পক্ষের হাতে বিতর্কের আরেকটি অস্ত্র তুলে দেয়।

এটা ঠিক যে, ইতিহাসের অনেক বিষয় চূড়ান্তভাবে মীমাংসিত নাও হতে পারে। কিন্তু কে কোন উদ্দেশ্যে কী বয়ান দিচ্ছেন এবং ওই বয়ানের ফলে ঐতিহাসিকভাবে মীমাংসিত কিংবা অধিকাংশ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ইতিহাসগুলো বিকৃত করার ফলে নতুন প্রজন্মের মনোজগতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে—তা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু উদ্ভট ও হাস্যকর বয়ান প্রতিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগীরা যে মূলত মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মকেই বিভ্রান্ত করতে চায় এবং এর মধ্যে দিয়ে ১৯৭১ সালে তাদের অপরাধ আড়াল করতে চায়, তাতে সন্দেহ নেই।

মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি বিষয় নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। যেমন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু সত্যিই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন কি না এবং তিনি কেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলেন; ৭ই মার্চের ভাষণেই কেন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন না; কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার এককভাবে এবং বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ তথা যুদ্ধে নেতৃত্বের কৃতিত্ব ইত্যাদি। এসব প্রশ্নের উত্তর অনেক বইতে আছে। একাডেমিক পরিসরে এসব নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে এবং এখনও বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। কিন্তু যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা; যে মানুষটি পুরো ষাটের দশকজুড়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছেন—তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলা এবং পাঠ্যবই থেকে তার নামের অংশে পরিণত হওয়া অভিধাটি ছেটে ফেলা; তার বিপরীতে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী তথা স্বাধীনতাবিরোধীদের ‘জাতির সূর্যসন্তান’ বলে অভিহিত করা; বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে দেশি-বিদেশি লেখক, গবেষক ও ঐতিহাসিকদের লেখার বিপরীতে গিয়ে নতুন বয়ান হাজির করা; মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্তান শব্দটি লিখতে অস্বস্তি বোধ করা; ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে থাকাকে ইসলাম রক্ষা হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া; একজনকে মহিমান্বিত করতে গিয়ে বাকি সবার অবদান অস্বীকার কার এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়ে এর ব্যাপ্তি, বিশালতা এবং এই যুদ্ধে কোটি কোটি মানুষের আত্মত্যাগকে খাটো করার যে রাজনীতি—তা তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম বোঝে না বা বুঝবে না—এরকম ভাবার কোনো কারণ নেই।

সূত্র : বিডিনিউজ। 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার