বিজ্ঞাপন
ওসমান হাদির খুনি ফয়সালের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৬ এএম
বিজ্ঞাপন
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ঘটনার পরপরই দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সে সীমান্ত অতিক্রম করে।
তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করা হয়। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ফিলিপের দুই সহযোগীর জবানবন্দিতে জানা যায়, ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত ব্যবহার করে ফয়সাল ও তার এক সহযোগী ভারতে প্রবেশ করে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফয়সালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের আইপি অ্যাড্রেস বিশ্লেষণ করে বুধবার ভারতের মহারাষ্ট্রে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। সে বর্তমানে দেশটির রিলায়েন্স কোম্পানির একটি মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করে যোগাযোগ বজায় রাখছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
যদিও হত্যাকাণ্ডের মূল দুই অভিযুক্ত এখনো পলাতক, তবে তদন্তে পুরো ঘটনার ছক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশে ফিরে ফয়সাল করিম মাসুদ কামাল, রুবেল ও মাইনুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১৮ মিনিটে ফয়সাল ও তার সহযোগী কবির বাংলামোটরের ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যান। প্রায় ছয় মিনিটের ওই সাক্ষাতে শরিফ ওসমান হাদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করা হয় এবং একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এরপর ৯ ডিসেম্বর রাতে ফয়সাল পুনরায় ওই কেন্দ্রে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নতুন সহযোগী আলমগীর। সেখানে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আলোচনা হয় এবং ওই বৈঠকের মাধ্যমেই ফয়সাল হাদির প্রচারণা টিমে যুক্ত হয়। পরদিন ১২ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেয় তারা।
রিসোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে শুক্রবার ভোর ৫টা ২২ মিনিটে ফয়সাল ও আলমগীরের গাড়ি প্রবেশের দৃশ্য ধরা পড়ে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া ও তার বোন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেখানে হাদির একটি ভিডিও দেখিয়ে ফয়সাল হামলার পরিকল্পনা প্রকাশ করে এবং ঘটনার পর সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
পরবর্তীতে বান্ধবীকে বাড্ডায় নামিয়ে দিয়ে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে আগারগাঁওয়ের বাসা থেকে মোটরসাইকেলে বের হয় ফয়সাল ও আলমগীর। তারা সরাসরি সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় যোগ দেয়। দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে হাদি মতিঝিলের উদ্দেশে রওনা হলে অভিযুক্তরা তাকে অনুসরণ করতে থাকে।
দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা মতিঝিলের জামিয়া দারুল উলুম মসজিদের সামনে পৌঁছায়। সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজ শেষে দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে সেখান থেকে রওনা দিলে অভিযুক্তরা আবারও পিছু নেয়। পরে মতিঝিল হয়ে পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে প্রবেশের পর দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে খুব কাছ থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন