Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

বিএনপির ঘোষিত ২৭২ সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঢাকায় জরুরি তলব

অন্তত ৪৫টি আসনে মনোনয়ন নিয়ে এখনো তীব্র কোন্দল

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৪ এএম

বিএনপির ঘোষিত ২৭২ সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঢাকায় জরুরি তলব

বিজ্ঞাপন

ঘোষিত ২৭২ আসনের সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকেছে বিএনপি। আজ থেকে তিন দিনব্যাপী প্রার্থীদের নিয়ে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সভা করবে দলটি। এতে ভোটের প্রচারণার কৌশলসহ নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য উন্নয়ন সেবা-এই মোট আট বিষয়ে কীভাবে কাজ করবে তা প্রার্থীদের জানাবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দলের এই প্রতিশ্রুতির কথা প্রচারে নেমে প্রার্থীরা গুরুত্বসহকারে ভোটারদের কাছে বলবেন।

এদিকে মনোনয়ন ঘিরে বিএনপিতে এখনো অস্বস্তি কাটেনি। অন্তত ৪৫টি আসনে মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সভার পর বিষয়টির সুরাহা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ আসনে ‘বিতর্কিত’ ও অজনপ্রিয়তার কথা বিবেচনায় কিছু আসনের প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মিত্রদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টিও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। সূত্র জানায়, আজ থেকে ধারাবাহিকভাবে তিন দিন মিত্র জোট ও দল নিয়েও গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকের কথা রয়েছে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্রদের সঙ্গে নিয়েই পথ চলতে চায় দলটি। সেক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ডের কারণে সংসদ নির্বাচনে মিত্র দলের কোনো শীর্ষ নেতাকে আসন ছাড় না দিতে পারলে উচ্চকক্ষে তাদের মূল্যায়ন করবে বলেও বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন।

জানা গেছে, পরিবর্তনের রাজনীতির বার্তা নিয়ে ভোটের মাঠে নামবে বিএনপি। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করছে দলটি। ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়ে এবারের ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যের মূল দিকনির্দেশনাও এতে প্রতিফলিত হবে। বিশেষ করে ৮টি খাতে কীভাবে কাজ করবে সে বিষয়টি গুরুত্ব দলটির। এই বিষয়গুলো নিয়ে সারা দেশের বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের নিয়ে সাত দিনের কর্মশালা ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। এই কর্মশালার পর ইতোমধ্যে নেতারা নির্বাচনি মাঠে ছড়িয়ে পড়েছেন। ঠিক একইভাবে সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের নিয়েও সভা হবে। অন্তত দশজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, তাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণাসহ ভোটকেন্দ্রিক নানা দিকনির্দেশনা দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন। প্রথম দিনে সংসদীয় আসনের ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত, দ্বিতীয় দিনে ১০১ থেকে ২০০ এবং শেষ দিনে ২০১ থেকে ৩০০ সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সভায় অংশ নেবেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এর আগে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হয়েছে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে। সারা দেশের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক যারা কাজ করছেন তারা বক্তব্য রেখেছেন। সব অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের সঙ্গেও গুলশান কার্যালয়ে দিনব্যাপী একই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে আজ বুধ, কাল বৃহস্পতিবার ও আগামী শনিবার।

এখনো মেটেনি ৪৫ আসনে কোন্দল : এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ভেতরে মনোনয়নসংক্রান্ত কোন্দল এখনো মিটেনি। সারা দেশে অন্তত ৪৫টি আসনে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রকাশ্য অসন্তোষ, আন্দোলন ও লিখিত অভিযোগ দলটির সাংগঠনিক পরিস্থিতিকে কিছুটা চাপে ফেলেছে। কোথাও মাঠে বিক্ষোভ, কোথাও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযোগপত্র-সব মিলিয়ে মনোনয়ন নিয়ে অস্বস্তি কাটেনি।

দলীয় সূত্র ও তৃণমূল নেতাদের ভাষ্য, যেসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতারা উপেক্ষিত হয়েছেন। পরিবর্তে বয়সে প্রবীণ, বিতর্কিত কিংবা সুবিধাভোগী নেতাদের মূল্যায়ন করায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ত্যাগী, অপেক্ষাকৃত তরুণ ও ‘ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থী দেওয়ার দাবিতে সংগঠিত হচ্ছেন অসন্তুষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, এই কোন্দল দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্বাচনি মাঠে এর সুবিধা পাবে প্রতিপক্ষ।

গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় ২৩৬টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। ফলে মোট ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রথম তালিকা ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ ও অভিযোগ ওঠে। তবে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় বেশ কয়েকদিন বিক্ষোভ না করে বঞ্চিতরা দোয়া কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু এখন আবারও বিক্ষোভ শুরু করেছে বঞ্চিতদের সমর্থকরা।

এরই মধ্যে একাধিক আসনে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। নেত্রকোনা-৫ আসনেও সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। নৈতিক স্খলনের অভিযোগ থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে অগ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রার্থী বদলের দাবি জানানো হয়েছে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে। ইতোমধ্যে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। স্থানীয় নারীরা বিতর্কিত ব্যক্তির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। তারা বলেন, পরিবর্তন করে ক্লিন ইমেজধারী কাউকে প্রার্থী না করলে ভোটে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। নেত্রকোনার এই আসনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক ছাত্রনেতা এএসএম শহিদুল্লাহ ইমরানকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বেশিরভাগ নেতা।

যশোর-২ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৩৮ জন শীর্ষ নেতা সম্প্রতি আবেদন করেছেন। সেখানে তারা একজন জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেন। পাশাপাশি যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি দুদকের মামলায় (ব্যক্তিগত মামলা) সাজাপ্রাপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন। আবেদন থেকে জানা গেছে, এই আসনে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীকে দুদকের মামলায় ২০১৮ সালের ১২ জুলাই (বিশেষ মামলা নং- ১৩/১০) ঢাকার সপ্তম বিশেষ জজ আদালত ৩ বছরের সাজা দেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে একট্টা অপর তিন প্রার্থী। তারাও মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এছাড়া বিএনপির মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের এক নেতাকে শুক্রবার ফোন (আরেক নেতার ফোন দিয়ে) করে হাত-পা ভেঙে এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই কথোপকথনের তিন মিনিট তিন সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মো. আবু হানিফ রাসেল ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, তিনি আরেক প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনের অনুসারী। তার সঙ্গে কাজ করায় শুক্রবার তাকে নজরুল ইসলাম আজাদ এ হুমকি দেন। তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। এ বিষয়ে কথা বলতে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের মুঠোফোনে ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম-১৬ আসনেও প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। স্থানীয় এক নেতা জানান, এ আসনে দুইবার গুমের শিকার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক সবচেয়ে ক্লিন ইমেজের। তিনিও মাঠে রয়েছেন।

এছাড়া মেহেরপুর-২, গাজীপুর-১, মুন্সীগঞ্জ-২, চাঁদপুর-২, সুনামগঞ্জ-৫, কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, মাদারীপুর-২, নাটোর-১, চট্টগ্রাম-৪ ও ১২, সিলেট-৬, রংপুর-৩, সাতক্ষীরা-২ ও ৩, ঠাকুরগাঁও-৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, নীলফামারী-৪, দিনাজপুর-২, জয়পুরহাট-১ ও ২, ময়মনসিংহ-৩, ৬, ৯ ও ১১, কুমিল্লা-৫, ৬ ও ১০, রাজশাহী-৪ ও ৫, রাজবাড়ী-২, নওগাঁ-১, ৩ ও ৪, পাবনা-৪, মৌলভীবাজার-২ আসনসহ আরও কয়েকটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলছে, যে কারণে ওইসব আসনে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও চরমে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার