বিজ্ঞাপন
বিজয় দিবস ‘অস্বীকারকারীরা’ কীভাবে এই সরকারের ঘনিষ্ঠ?
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে আলোচনা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২০ এএম
বিজ্ঞাপন
একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সূচনা হয় মুক্তিযুদ্ধের। অথচ এবার বিজয় দিবসে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম দাবি করছেন, মার্চ মাসে মুজিব বাহিনী নাকি এলাকায় এলাকায় গণহত্যা চালিয়েছিল। এই গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় ২৫ মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নামিয়ে ক্র্যাকডাউন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে জামায়াত একাত্তরে নিজেদের বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকা ঢাকতে চায় বলে মনে করেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরো বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংসতা যারা অস্বীকার করে, এমনকি যারা বিজয় দিবস মানতে চায় না, তাদেরকেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ সরকারপ্রধানের বাসভবনের অনুষ্ঠানেও যান। যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে দেশের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে, তারা কীভাবে এই সরকারের ঘনিষ্ঠ হন- প্রশ্ন রাখেন আল জাজিরায় কর্মরত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান।
১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। সমসাময়িক রাজনীতির নানা বিষয়ে ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন দুই অতিথি।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জামায়াত ও শিবির অনেক ভূমিকা রেখেছে। পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাদের এক ধরনের প্রভাবও আছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক জাতীয় দিবসগুলো জামায়াতের পক্ষে পালন করা বিব্রতকর। ক্ষমতায় না থাকলে এসব দিনে তারা কিছুটা চুপচাপ থাকে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকলে নিজেদের মতো করে দাম্ভিকতা দেখায়। মুক্তিযুদ্ধকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার প্রবণতা দেখায়। যা একাত্তরকে আওয়ামী লীগের দিকে ঠেলে দেওয়ার সামিল বলে মনে করেন সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা। তিনি আরো বলেন, অল্প কিছু মানুষ বাদে একাত্তরে সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগে ক্ষমতার দাপটে কেউ কেউ সেই মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলছে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস কখনো চাপা দিয়ে রাখা সম্ভব নয়- মনে করেন তিনি।
একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা সমর্থন করতে পারছেন না বলে জানালেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা। তার ভাষ্যমতে, ‘আনিস আলমগীরের অনেক কথার সঙ্গে আমি একমত নই। এক্ষেত্রে কেউ অপতথ্য ছড়ালে সেটা সঠিক তথ্য দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু এর বদলের গ্রেপ্তারের মতো বিষয় বাক স্বাধীনতা নাই, এমন অভিযোগের পক্ষে কাজ করে। কথা বলার জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা কোনোভাবেই সঠিক পথ নয়।’
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার প্রেক্ষিতে আনিস আলমগীরের যে বক্তব্য, সেই সূত্রে তিনি গ্রেপ্তার, বলছেন অনেকেই। সরকারের এই প্রবণতার সমালোচনাই করলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান। তিনি বলছেন, ‘ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর জানার পর আনিস আলমগীর এমন কিছু বলেননি, যার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। যার যার নিজের মতো করে ঘটনা বিশ্লেষণের সুযোগ দিতে হবে। অথচ এই সরকারের সময়ই যারা ক্যান্টমন্টে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না।’
বিজ্ঞাপন