বিজ্ঞাপন
এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী নেত্রীর
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও বেসরকারি কারা পরিদর্শক জুবাইরুল আলম মানিকের বিরুদ্ধে হুমকি, যৌন হয়রানি, অনলাইন বুলিং ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার মুখপাত্র মাহবুবা ইলা খাদিজা।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
ইলা অভিযোগে বলেছেন, সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কারণে মানিকের বহাল অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি ও অপমানের শিকার হয়েছেন।
তার দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে অশালীন বার্তা পাঠানো থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, সবই হয়েছে পরিকল্পিতভাবে।
তিনি অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, কর্ণফুলী উপজেলার নতুন অনুষ্ঠানস্থলে শহিদ ওয়াসিম আকরামের ছবি বাদ দিয়ে মানিক নিজের ছবি ব্যবহারের ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বিদেশি নম্বর থেকেও তাকে হত্যার হুমকি পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে চলতি বছরের ১৪ মে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলেও দাবি করেন ইলা।
২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির এক মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে মানিকের অনুসারীদের সঙ্গে তার সংগঠনের উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এরপর কয়েকটি স্থানীয় পক্ষ তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বিরুদ্ধে কটূক্তি চলতে থাকে।
ইলা অভিযোগে জুবাইরুল আলম মানিকসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে ও বার্তা পাঠিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মানিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘মেয়েটিকে আগে থেকেই চিনি। কিন্তু এক বছরে কোনো যোগাযোগ হয়নি। সে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’
প্রতিবেদন করতে গিয়ে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৫ জুন মাহবুবা ইলা সমন্বয়ক পরিচয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) একটি দেওয়াল ভাঙার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সিডিএর কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলে তিনি রেহাই পান বলে একাধিক সূত্র জানায়।
এছাড়া ইলা বর্তমানে আপ বাংলাদেশ পার্টির দক্ষিণ জেলা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের অভ্যন্তরে তার বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে প্রভাব খাটানো ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘি এলাকা থেকে আটক এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে আনতেও তিনি সক্রিয় তদবির করেছিলেন, এমন একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
ঘনিষ্ঠ মহলে বন্দর, সিডিএ ও আনোয়ারার বিভিন্ন কারখানা থেকে কীভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়া যায়, এ নিয়েও তিনি আলোচনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একদিকে মানিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযোগকারী নেত্রীর বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর তথ্য উঠে আসায় পুরো ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক পরিসরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বিজ্ঞাপন