‘ঘি’ বিতর্ক, কখনোই আর খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন করবেন না ডা. এজাজ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:০৫ পিএম
পর্দায় অভিনয় আর সংলাপে বরাবরই প্রশংসিত জনপ্রিয় অভিনেতা ডা. এজাজ। তবে এবার উল্টো চিত্র! সম্প্রতি খাঁটি-ঘি নামের একটি অনলাইনের প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন করে তিনি তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এমনকি তাঁকে ভোক্তা অধিদপ্তরেও যেতে হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ডা. এজাজের ওপর ভরসা করে খাঁটি-ঘি কিনে প্রতারিত হয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, ‘অনলাইনে বিভিন্ন পেজে বিজ্ঞাপন দেখেছি, কিন্তু ভরসা পাই না। একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় খাঁটি-ঘির পেজে দেখি জনপ্রিয় অভিনেতা এজাজ তাদের প্রোডাক্টের প্রচার করছেন। ওনার ওপর ভরসা করে ঘি কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছি।’
সামাজিকমাধ্যমে একই অভিযোগ করেছেন আরও অনেকে। সেসব অভিযোগের জবাবে ডা. এজাজ জানালেন, তিনি জীবনে আর কখনও খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন করবেন না।
গণমাধ্যমে এই অভিনেতা বলেন, ‘সম্প্রতি এটার জন্য ভোক্তা অধিদপ্তরে আমাকে ডেকেছিল। কর্তৃপক্ষ জানান, আমাকে দেখিয়ে খাঁটি-ঘি নামের প্রতিষ্ঠান ভক্তদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ওনারা আমাকে বলেছেন, আপনাকে এটা একটা লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। আমি তাদের জানিয়েছি যে, যখন খাঁটি-ঘি নামের প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনটি করি, তখন আমাকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) ছাড়পত্র দেখানো হয়েছিল। সেটি দেখে বিজ্ঞাপনটি করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন ডিরেক্টর আমাকে পণ্যের গায়ে বিএসটিআই-এর লোগো দেখান। আমি তো অবশ্যই বিশ্বাস করব খাদ্যপণ্যে বিএসটিআই-এর অনুমোদন আছে, মানে সেটা খাঁটি। এখন প্রতিষ্ঠানটি যদি গ্রহকদের ভেজাল পণ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে ভোক্তা অধিদপ্তর যেন সেটা তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যথোপযুক্ত বিচারের জন্য আমি ভোক্তা অধিদপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন করেছি।’
তবে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানোর পরও বিজ্ঞাপনটি এখনও প্রচার করা হচ্ছে। সেটির প্রচার বন্ধের জন্য ওই ঘি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে কিছু বলেছেন কিনা—এ বিষয়ে এজাজ বলেন, ‘অবশ্যই কথা হয়েছে। তারা তো কথা শুনছেন না। আমি তো তাদেরকে নিষেধ করেছি যে, দয়া করে আর প্রতারণা করবেন না। এটা বন্ধ করেন। তারা যে কথা শুনছেন না সেটা আমি ভোক্তা অধিদপ্তরকে বলেছি। আমি এটাও বলছি যে বিজ্ঞাপন প্রচার এবং পণ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করুন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর দায়িত্বটা আমি আরও আগে পালন করেছি।’
সবশেষে ডা. এজাজ জানান, ভবিষ্যতে তিনি আরও কখনও খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত হবে না। তাঁর ভাষ্য, ‘সব জায়গায় অসৎ মানুষে ভরে গেছে। কেউ কথা রাখে না। এই ঘটনার পর একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আর কখনোই খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে নিজেকে সম্পৃক্ত করব না, কখনোই না।’