বিজ্ঞাপন
প্রিন্টিং মেশিনের ঘোষণা দিয়ে আমদানি, কনটেইনারে মিলল ৪০ লাখ জাল স্ট্যাম্প
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা কনটেইনারে মিলেছে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়েছে পণ্য ঘোষণায় এই জালিয়াতি।
রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের চায়না মার্ট নামের প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা এ চালানে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদনের মাধ্যমে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং প্রসাধনী আমদানিতে আরো প্রায় আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখার পর গত ৫ নভেম্বর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা চালানটি বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। এ সময় ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী এবং জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। তবে চালানটিতে ঘোষিত কোনো প্রিন্টিং মেশিন পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষায় মোট ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। এসব স্ট্যাম্প নিম্নস্তরের (লো সেগমেন্ট) ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। দেশে ২০ শলাকার নিম্নস্তরের একটি সিগারেটের প্যাকেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা। এর বিপরীতে সরকার রাজস্ব পায় ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা। সেই হিসাবে উদ্ধার করা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকার আনুমানিক ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারত।
এ ছাড়া চালানটিতে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রীর বিপরীতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি নিরূপণ করা হয়েছে। ফলে জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প ও ঘোষণাবহির্ভূত প্রসাধনী আমদানির মাধ্যমে মোট প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়, অন্যদিকে বৈধ বাণিজ্যিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্য ঘোষণায় মিথ্যা তথ্য প্রদান, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।