Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

রাজধানীতে এক রাতেই পাঁচ এলাকায় ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

রাজধানীতে এক রাতেই পাঁচ এলাকায় ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন

বিজ্ঞাপন

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এক রাতের ব্যবধানে অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে প্রগতি সরণীর কোকাকোলা ক্রসিং এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আদাবর, শাহবাগ, খিলগাঁও, বিমানবন্দর ও মিরপুরের কালশী এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। তবে কোনো ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে খিলগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের ভেতরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আশপাশের কোনো ভবনের ছাদ কিংবা নিচের কোনো জায়গা থেকে ককটেলটি ছোড়া হয়ে থাকতে পারে।

এরপর রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে আদাবর থানার সামনে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পরপরই তারা মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সেকেন্ড ইন কমান্ড-টুআইসি) ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শাহবাগ থানার আওতাধীন আইবি গেট এলাকায় পুলিশের একটি ডিউটি গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। মোটরসাইকেলে চলার সময় দুর্বৃত্তরা বিস্ফোরকটি ছুড়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১২টা ১ মিনিটে শাহবাগের জুলাই চত্বরের পাশেও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেক এসব ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর গোলচত্বরে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার জানান, উড়ালসড়ক থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ককটেল দুটি নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটানোর পর পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে, মিরপুরের কালশী মোড়েও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত সরে পড়ে। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে মোটরসাইকেলে আসা ব্যক্তিদের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রগতি সরণীর কোকাকোলা ক্রসিং এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বাসটি সাভার থেকে নতুন বাজার রুটে চলাচল করত। নতুন বাজার এলাকায় যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর দুর্বৃত্তরা এতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে কারা এই অগ্নিসংযোগ করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের তথ্য মেলেনি। এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার