Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ঢাকায় চালু হচ্ছে দুই মনোরেল, চলবে কোন পথে?

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

ঢাকায় চালু হচ্ছে দুই মনোরেল, চলবে কোন পথে?

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর গণপরিবহনে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন দুই মনোরেল রুট। ২০৩০ সালের মধ্যে রুট দুটি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত পাঁচটি রুটের মধ্য থেকে দুটি চূড়ান্ত করতে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন চলছে বিস্তারিত নকশার কাজ। খবর বাসসের।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত মনোরেল রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই এ পরিবহনব্যবস্থা যাত্রীদের চলাচল সহজ করবে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় যাত্রীর চাহিদা বেশি।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত মনোরেল রুটগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহনব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখা হবে। এতে মেট্রোরেলের যাত্রীদের গন্তব্যের শেষ অংশে যাতায়াত সহজ হতে পারে।

ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) মনোরেল রুটের প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এখন বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ জন্য ‘ঢাকা মহানগর অঞ্চলে গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেল রুটের সমন্বয় ও প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ শীর্ষক একটি পরামর্শক চুক্তি করেছে ডিটিসিএ। সমীক্ষা ও দুটি প্রস্তাবিত রুটের বিস্তারিত নকশা তৈরিতে রাজস্ব বাজেট থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ডিটিসিএ বিভিন্ন এলাকার যান চলাচলের মডেলভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে যাত্রী চাহিদা নিরূপণ করেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বুয়েটের পরামর্শকদের দেওয়া হয়েছে।

যে পথে মনোরেল চালুর প্রস্তাব

হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (আরএসটিপি) প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল রুটের প্রস্তাব রয়েছে। এসব রুটের মধ্য থেকে দুটি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

প্রস্তাবিত পাঁচটি রুট হলো—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার)।

এ ছাড়া পরিকল্পনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত ৯টি স্টেশনসহ মনোরেল-৮, আলুব্দী থেকে পশ্চিম আগারগাঁও অথবা শ্যামলী পর্যন্ত ১০টি স্টেশনসহ মনোরেল-১০ এবং পল্টন থেকে সদরঘাট অথবা ঝিলমিল পর্যন্ত ৬ বা ১১টি স্টেশনসহ মনোরেল-১৩-এর প্রস্তাব রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এমন এলাকাগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যেখানে মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে বাসের ফিডার সার্ভিসের সুযোগ সীমিত। বুয়েটের এক পরামর্শকের বরাতে বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বিভিন্ন এলাকার জনসংখ্যা, সম্ভাব্য স্টেশনগুলোর যাত্রী আকর্ষণের এলাকা, গণপরিবহন সেবার অপ্রাপ্যতা, যানজটপূর্ণ এলাকা, ডিপো নির্মাণের জন্য জমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সমীক্ষায় প্রস্তাবিত রুটের অবস্থান, সম্ভাব্য স্টেশন ও ডিপোর স্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ও পরিচালন ব্যয়ও পর্যালোচনা করা হবে।

মনোরেল হলো উড়াল কাঠামোর ওপর দিয়ে চলাচলকারী এক ধরনের গণপরিবহনব্যবস্থা। ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়কের জায়গা সীমিত হওয়ায় এ ধরনের পরিবহনব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা যাচাই করছে ডিটিসিএ। সরকারের বৃহত্তর নগর পরিবহন উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীতে মনোরেল চালুর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার