বিজ্ঞাপন
গোর-এ শহীদ ময়দানে ইজতেমা, জুমার নামাজে লাখো মুসল্লির ঢল
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মাধ্যমে শুরু হয় এই ইজতেমা।
এদিকে ইজতেমার প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় ইজতেমাস্থলে দুপুরে জুমার নামাজে মুসল্লিদের ঢল নামে। সেখানে একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন প্রায় এক লাখ মুসল্লি।
দিনাজপুর জেলা তাবলিগ জামাতের দায়িত্বশীল শেখ সাবির আলী জানান, দিনাজপুরে অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ইজতেমা। শুক্রবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে আমবয়ান শুরু করেন মাওলানা মনির বিন ইউসুফ। এরপর শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় দুপুরে ইজতেমাস্থলে অনুষ্ঠিত হয় জুমার নামাজের জামাত। জুমার নামাজে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকার কাকরাইলের মুরুব্বি মুফতি সৈয়দ ওসামা ইসলাম। এরপর আবারও আমবয়ান শুরু করেন মাওলানা মনির বিন ইউসুফ।
তিনি বলেন, তিন দিনব্যাপী এই ইজতেমায় বাংলাদেশি মাওলানারা ছাড়াও সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সুদান থেকে আগত মাওলানারা বয়ান পেশ করবেন। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী এই ইজতেমা সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর জেলা তাবলিগ জামাতের আমিরে ফয়সাল এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম জানান, বাংলাদেশের আমিরে ফয়সাল ও ঢাকার কাকরাইলের জিম্মাদারসহ (দায়িত্বশীল) কয়েকজন জিম্মাদার ইজতেমায় আসবেন।
ইজতেমার প্রথম দিনে শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় দুপুরে জুমার নামাজে ইজতেমাস্থলে মুসল্লিদের ঢল নামে। বিশাল জামাতে একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে সকাল থেকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা হাতে জায়নামাজ নিয়ে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে আসতে শুরু করেন। দুপুর হতে না হতেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় বড় ময়দানের দক্ষিণপ্রান্ত। আয়োজকরা জানান, প্রায় এক লাখ মুসল্লি একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন।
জুমার নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লি মো. আকবর আলী বলেন, আমরা প্রতি শুক্রবারেই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করি; কিন্তু এত বড় জামাতে কখনও জুমার নামাজ আদায় করার সুযোগ পাইনি। বড় জামাতে নামাজ আদায় করার ফজিলত অনেক বেশি। যেহেতু এবার দিনাজপুরে জুমার নামাজের বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই মহান আল্লাহপাকের কাছে অধিক ফজিলতের আশায় এই জামাতে নামাজ আদায় করতে এসেছি।
বিশাল জামাতে জুমার নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি তিনি। একই রকম অনুভূতি ব্যক্ত করেন অন্য মুসল্লিরাও।
এদিকে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য বিশাল প্যান্ডেল, টয়লেট, অজুখানা, আগত মেহমানদের থাকার ঘর তৈরি করা হয়েছে। নিরাপদ স্যানিটেশনের জন্য দুই শতাধিক টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। বিদেশি মেহমান ও তাবলিগ জামাতের বৃদ্ধ সাথিদের জন্য মাঠের দক্ষিণ পাশে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কক্ষ।
ইজতেমায় দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলা, পাশের জেলা ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ আশপাশের এলাকা থেকে আগতরা ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দিনাজপুরে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর করোনার কারণে দুই বছর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার নিয়ে দিনাজপুরে অষ্টমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ইজতেমা।