Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫৭ পিএম

ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

বিজ্ঞাপন

ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চালককে স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীকে ভাতাও দেওয়া হবে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় একথা জানান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করব। আপনি যখন প্রশিক্ষণ নেবেন আমরা প্রশিক্ষণের একটা ভাতাও আপনাদের দেব।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সড়কে এই যে দুর্ঘটনা এবং যানজট হয় এগুলোর আসল কারণটা কী? এটা আমরা কিন্তু সবাই জানি। যানজট এবং দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ড্রাইভাররা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না। সড়ককে নিরাপদ ও যানজট মুক্ত করতে হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ড্রাইভার হতে হবে।’ 

ফাওজুল কবির আরও বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার যে পদ্ধতি রয়েছে আমরা সেটাকে আমূল পরিবর্তন করছি। এখন যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে এটার মূল হবে প্রশিক্ষণ। বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার একটা কমিটি আছে, আমরা সেই কমিটি বাদ দিচ্ছি।’

‘অন্য দেশে যেভাবে মানুষ লাইসেন্স পায়, লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ও পূর্ব শর্ত হচ্ছে আপনাকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। এ জন্য আমরা বলেছি সামনে লাইসেন্স পেতে হলে আপনাকে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে’- উল্লেখ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা।

লাইসেন্স পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স পদ্ধতি পরিবর্তনের মূল কাজ হবে প্রশিক্ষণ এবং এজন্য যেসব আনুষঙ্গিক কমিটি আছে সেগুলো বাদ দেওয়া হবে। আর ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে লাইসেন্স নিতে হলে।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণকালীন ভাতাও দেওয়া হবে। সড়ককে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক লাগবে।

সড়ক পরিবহণ উপদেষ্টা বলেন, বিআরটিএকে নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্থা থেকে সেবামূলক সংস্থা করতে চাই। এ ছাড়া বিআরটিসি, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই ধরনের প্রশিক্ষণ হবে। সড়কের সাইন যেন বুঝতে পারেন, গাড়িকে যেন ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। শারীরিক সামর্থ্য, ডোপ টেস্ট করা হবে। সম্ভব হলে আগামী মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ শুরু করব।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় সমস্যা ফিটনেসবিহীন গাড়ি। এগুলোকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং আরও সেটা বাড়বে—এগুলো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। হেলমেট ব্যবহার প্রসঙ্গে ফাওজুল কবির খান বলেন, দেশে মোটরসাইকেল ব্যবহার বাড়ছে তাই দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হারও বাড়ছে এজন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য আমরা ১০ হাজার হেলমেট দেব আরোহীদের, সচেতনতা সৃষ্টি করতে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখশ চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন সেতু সচিব মো. আবদুর রউফ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমসহ অনেকে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার