বিজ্ঞাপন
মৃত্যুর পর প্রকাশিত ফল, ৯ বিষয়ে এ প্লাস পেয়েও জানা হলো না সুমাইয়ার
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
১০টি বিষয়ের মধ্যে ৯টিতেই এ প্লাস (A+) পেয়েছেন মোছা. সুমাইয়া খাতুন। একটি বিষয়ে পেয়েছেন এ (A) গ্রেড। সব মিলিয়ে তাঁর জিপিএ ৪.৮০। তবে ঐচ্ছিক বিষয়সহ জিপিএ দাঁড়িয়েছে ৫.০০। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় এমন ফল করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।
কিন্তু এই সাফল্যের খবর নিজে জেনে যেতে পারেননি সুমাইয়া। ফল প্রকাশের আগেই মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তাই তাঁর ভালো ফলের খবর পরিবারে আনন্দের বদলে শোকের স্মৃতি হয়ে এসেছে।
সুমাইয়া বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে তাঁর রোল নম্বর ৪১২৭৯৪। তিনি উপজেলার শুভগাছা গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন ও মোছা. রেশমা খাতুনের মেয়ে। তাঁর স্বামী আব্দুল মতিন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গর্ভবতী অবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন সুমাইয়া। তখন তাঁর গর্ভে ছিল তিনটি সন্তান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে বগুড়ার শান্ত পলি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে স্ট্রোক করার পর ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
২০০৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সুমাইয়ার মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল মাত্র ১৯ বছর। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফল পরিবারের সদস্যদের কাছে নতুন করে বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে ফলাফল নিয়ে তাঁর আনন্দ করার কথা ছিল, সেই ফলাফলের খবর এখন স্বজনদের কাছে প্রিয়জনকে হারানোর স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
নয়টি বিষয়ে এ প্লাস এবং ঐচ্ছিক বিষয়সহ জিপিএ ৫.০০ পাওয়ার এই অর্জন সুমাইয়ার মেধা ও পরিশ্রমের পরিচয় বহন করছে। তবে নিজের অর্জনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ আর পাননি তিনি। তাঁর পরিবার ও স্বজনদের কাছে সুমাইয়ার এই ফল এখন আনন্দ-বেদনার এক স্মৃতি হয়ে থাকবে।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা মরহুমা সুমাইয়া খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।