বিজ্ঞাপন
এক ক্লিকেই জমির পর্চা: ঘরে বসে যেভাবে খুঁজবেন ও পাবেন
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
বিজ্ঞাপন
ডিজিটাল সেবার সুবাদে এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভূমি অফিসে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকার দিন নেই। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ঘরে বসেই এখন জমি-সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি বা দলিল সংগ্রহ করা সম্ভব। জমি কেনাবেচা, মালিকানা যাচাই, নামজারি (মিউটেশন), ব্যাংক ঋণ নেওয়া কিংবা আদালতে আইনি লড়াই—প্রতিটি পদক্ষেপে যে কাগজটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তা হলো ‘জমির পর্চা’। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে অনলাইনেই এখন খুব সহজে পর্চা খুঁজে পাওয়া যায় এবং এর সার্টিফাইড কপিও সংগ্রহ করা যায়।
জমির পর্চা আসলে কী, কেন এটি এতটা জরুরি, আর কীভাবে অনলাইনের মাধ্যমে তা খুঁজে পাবেন— এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক আইনজীবী।
জমির পর্চা কী ও এর গুরুত্ব কতখানি?
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, জমির পর্চা হলো একটি খতিয়ানের প্রাথমিক বা খসড়া কপি। এটি সরকারি নথি হিসেবে সংশ্লিষ্ট জমির বর্তমান মালিক বা প্রকৃত দখলদারের পরিচয় তুলে ধরে এবং জমির মালিকানার শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
জমি কেনাবেচার সময় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই পর্চা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া, নামজারি করা, উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিকানা ঠিক করা কিংবা আদালতে জমি নিয়ে কোনো ঝামেলা হলে তা মেটানোর ক্ষেত্রে পর্চার ভূমিকা অপরিসীম। নথিতে কোনো ভুল বা পর্চা না থাকলে পরবর্তীতে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
অনলাইনের দুনিয়ায় যেভাবে খুঁজবেন জমির পর্চা
আগে যেখানে পর্চা তুলতে ভূমি অফিসে চক্কর কাটতে হতো, এখন তা হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর কিংবা মালিকের নাম দিয়ে অনলাইনেই যেকোনো জমির তথ্য খুঁজে বের করা যায়। নির্দিষ্ট ফি দিয়ে আবেদন করলে পর্চা সরাসরি ডাউনলোড করা যায় অথবা প্রয়োজনে ডাকযোগেও হাতে পেয়ে যাওয়া সম্ভব।
ePorcha ওয়েবসাইটের সহজ ধাপসমূহ
অনলাইনে পর্চা খুঁজতে প্রথমে ePorcha ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর খুব সহজ কয়েকটি ধাপে এগোতে হবে—
- প্রথমে নিজের বিভাগ নির্বাচন করতে হবে।
- এরপর একে একে জেলা ও উপজেলা সিলেক্ট করুন।
- নির্দিষ্ট মৌজা বেছে নিন।
- সর্বশেষ খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম লিখে সার্চ অপশনে ক্লিক করুন।
তথ্য সঠিক থাকলে স্ক্রিনেই ভেসে উঠবে কাঙ্ক্ষিত জমির খতিয়ান। সেখান থেকে জমির মালিকানা, দাগ নম্বর এবং জমির শ্রেণি খুব সহজেই যাচাই করে নেওয়া যায়।
অনলাইনে আবেদনের প্রস্তুতি: যা যা লাগবে
অনলাইনে পর্চার জন্য আবেদন করতে গেলে কিছু তথ্য আগে থেকেই হাতের কাছে রাখা ভালো। যেমন—
- বিভাগ, জেলা ও উপজেলার নাম
- সঠিক মৌজার নাম
- খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর
- জমির মালিকের নাম
এ ছাড়া আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং অনলাইন পেমেন্ট করার মাধ্যম সঙ্গে রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য টাইপিং ভুলেও কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান খুঁজে পাওয়া মুশকিল হতে পারে। তাই তথ্য দেওয়ার সময় অবশ্যই দুবার ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সার্টিফাইড কপি পাওয়ার উপায়
অনলাইনে শুধু তথ্য দেখেই শেষ নয়, চাইলে এর অফিশিয়াল কপি বা সার্টিফাইড কপিও সংগ্রহ করা যায়। এর জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট খতিয়ান অনলাইনে খুঁজে বের করে নির্ধারিত সরকারি ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন পাস হয়ে গেলে অনলাইনেই সার্টিফাইড কপি ডাউনলোড করা সম্ভব। আবার ইচ্ছা করলে ডাকযোগেও কপিটি আনিয়ে নেওয়া যায়। ব্যাংক, আদালত কিংবা যেকোনো সরকারি কাজে এই সার্টিফাইড কপি আইনগতভাবে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য।