Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

শ্রমিক আন্দোলন দমনে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি মোতায়েন

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

শ্রমিক আন্দোলন দমনে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি মোতায়েন

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মিরপুরে নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা মুজুরির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলন দমনে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলন দমনে বিভিন্ন সড়কে মিছিল করছে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকার বিভিন্ন সড়কে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকাজুড়ে পর্যাপ্ত পুলিশ ও এসআরবি সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। এছাড়াও সাঁজোয়া যান ও একটি জলকামানের গাড়ি রাখা হয়েছে। এছাড়াও মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচেও সাঁজোয়া যান ও পুলিশের অবস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে মিরপুর ১২ নম্বর এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে এদিন সকাল থেকে মিরপুর এলাকায় দুই দফায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল করতে দেখা যায়। মিছিল থেকে ‘শ্রমিক-জনতা ভাই ভাই, আওয়ামী লীগের রক্ষা নাই’, ‘আপা আপা করিস না, তোদের আপা ফিরবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

জানা গেছে, এর আগে সকাল ৯টার দিকে পল্লবী ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার বিভিন্ন কারখানার সামনে শ্রমিকরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। একই সময়ে রূপনগরের শিয়ালবাড়ী এলাকায় শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর ও শিয়ালবাড়ী এলাকায় কয়েকবার শ্রমিকরা রাস্তায় নামার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছি।

এদিকে আন্দোলন ঘিরে মিরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মো. মহিদুল ইসলাম।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্তর এলাকায় উপস্থিত হয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মিরপুর-১, পল্লবীর বিভিন্ন এলাকা, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।

আন্দোলনের নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করা, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরপুরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মহিদুল ইসলাম বলেন, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অনেক পোশাক কারখানার শ্রমিক কাজে ফিরে গেছেন এবং কারখানাগুলোতে কাজ চলছে। আশা করি শ্রমিকরা কাজে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

পুলিশের পাশাপাশি অভিযানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে জানিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করে যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের প্রতিহত করা হয়েছে।

আন্দোলনের নামে সহিংসতাকারীদের সতর্ক করে মহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। আন্দোলনের নামে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, কারখানায় আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে যারা এসব অপরাধ করাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং গার্মেন্টস খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক বা যত ষড়যন্ত্রই করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ যাতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার