বিজ্ঞাপন
প্রেমিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় দম্পতিকে হত্যা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
যশোরের কেশবপুরে আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। প্রেমিক-প্রেমিকার আপত্তিকর অবস্থায় থাকার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী। আর মোস্তফা কামাল একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের শিকার দম্পতি হলেন কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের আলেক সরদার (৪৬) ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক জানান, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত সোমবার (২ নভেম্বর) জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্য ও তদন্তে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে।
পুলিশের কাছে দেয়া জেসমিনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, জেসমিন বেগম ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন ও মাজেদা। মাঠে যাওয়ার পথে মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। একপর্যায়ে কৌশলে মাজেদার সঙ্গ ছেড়ে অন্যত্র ঘাস কাটতে যান জেসমিন। সেখানে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা।
তিনি জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় জেসমিন ও মোস্তফা কলমি শাক তোলার কথা বলে মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে নুর ইসলামের ঘেরের পাশে নিয়ে যান। তালতলার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা হাতে থাকা পাসনি (নিড়ানি) দিয়ে আলেককে আঘাত করেন। পরে মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেয়া হয়। আলেককে মারধর করে পুরোনো স্যালো মেশিনের গর্তে ফেলে দেয়া হয়। এ সময় মাজেদা জীবিত ছিলেন। পরে কাঁচি দিয়ে তার তলপেট ও পায়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাকেও ওই গর্তে ফেলে দেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে কেশবপুর থানা পুলিশের একটি দল। তদন্তের ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোস্তফা কামালকেও আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, জেসমিন ও মোস্তফা কামালের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।