বিজ্ঞাপন
ঘরের মেঝেতে ‘অলৌকিক কবর’, পির-আউলিয়ার নাম ভাঙিয়ে ঝাড়ফুঁক
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১২ পিএম
বিজ্ঞাপন
বসতঘরের মেঝেতে অলৌকিকভাবে জেগে ওঠা দুটি কবর ঘিরে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পির-আউলিয়ার নাম ভাঙিয়ে চলছে ঝাড়ফুঁক। এছাড়া তেলপড়া ও বিভিন্ন রোগের আরোগ্য লাভের আশায় ছুটে আসছেন নারী-পুরুষরা।
সংশ্লিষ্ট পরিবারের দাবি, এক সপ্তাহ আগে অলৌকিকভাবে বসতঘরের মাঝে দুটি কবর জেগে ওঠেছে। এলাকার কেউ কেউ বিষয়টি মিথ্যা ও ভুয়া বলে দাবি করছেন। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী ছয় মাস আগে থেকে ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। এ সময় তার কাছে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।
সজীবের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তাদের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠে। ওই রাত ১২টার দিকে ওই কবরের পাশে আরেকটি কবর জেগে ওঠে।
তাদের দাবি, ঘরের মধ্যে জেগে ওঠা কবর দুটি হলো- বড় পির আবদুল কাদের জিলানী ও খাজা মাইনউদ্দিন চিশতীর।
এ ঘটনা এলাকায় জানাজানির পর উৎসুক লোকজন ওই বাড়িতে জেগে ওঠা কবর দেখার জন্য ভিড় করছেন এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঘরের মেঝেতে জেগে ওঠা দুটি কবর নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কবর দুই হাত ও অপরটি তিন হাত লম্বা। কবর দুটির পাশে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া।
সজীবের বাবা ছালাম বেপারীকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও সজীবের মা শিউলী বেগম বলেছেন, আমার ছেলে সজীব দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েও ভালো হয়নি। ছয় মাস আগে নিজ বাড়িতে স্বপ্নপ্রাপ্ত হয়ে সে বাড়িতে ধ্যানে বসে নিজে সুস্থ হয় এবং বিভিন্ন মানুষকে রোগের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করছেন।
এর আগে হোটেলে বয়ের কাজ করা সজীব বেপারী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে তিনি ধ্যানে বসে লোকজনকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। হঠাৎ করে ২৬ অক্টোবর সকালে আমার বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠে। একই দিন রাতে আরেকটি কবর একই ঘরের মেঝেতে জেগে ওঠে।
তিনি দাবি করেন, কবর দুটি হলো বড় পির আবদুল কাদের জিলানী ও খাজা মাইনউদ্দিন চিশতীর।
আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনো নজির বা ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপম মজুমদার বলেছেন, সরেজমিন পরিদর্শনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।