বিজ্ঞাপন
২৩ থেকে ২৫ তারিখেও বারে যান তাহসিফ, সঙ্গে ছিলেন আরেক তরুণী
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরীর বন্ধু দীপ তদন্ত সংস্থার কাছে জানিয়েছে, বান্ধবী দিশার ওপর অভিমান করেই টঙ্গির মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন তাহসিফ। এছাড়া উত্তরার সেই বারেই দিশার সঙ্গে অভিমানে বিষয়ে জানান তাহসিফ।
উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বারে প্রবেশের পর এক টেবিলে বসেন তাহসিফ, দিশা ও দীপ। অর্ডার করেন ১৬ শতাংশ অ্যালকোহল যুক্ত চারটি বিয়ার। এর আগে ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবরও এই বারে গিয়েছিলেন তাহসিফ। তখন দীপ-দিশা ছাড়াও সঙ্গে ছিলেন তাদের আরেক বান্ধবী। ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ৭ মিনিট থেকে ১১টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত ওই বারেই ছিলেন তিনজন।
এ সময় দিশার কোনো আচরণে মনোক্ষুণ্ণ ছিলেন তাহসিফ। এ নিয়ে দ্বীপের উপস্থিতিতেই কথা হয় তাদের। পরে বার থেকে বেরিয়ে দিশা রিকশা ঠিক করেন চলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তাসিফের অনুরোধে রিকশা ছেড়ে মোটরসাইকেলে করেই বাসায় যান দিশা।
দিশাকে নামিয়ে দিয়েই ১২টা ৫২ মিনিটে মাজার বস্তিতে যান তাহসিফ ও দীপ। এ সময় সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় তাহসিফ ও দীপের। (টক টু মাচ জাস্ট কাম, দীপ জাস্ট কাম, ডোন্ট টক টু মাচ...)। পরে মাজার বস্তির সামনে দিয়ে টঙ্গীর ওই মাঠে প্রবেশ করেন তাহসিফ। এরপর ১টা ৫ মিনিটে মাজার রোড ধরেই নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে সেখানে যান পুলিশ সদস্যরা। তবে পুলিশের টহল টিম এলাকা ছাড়ার আগেই মাজার বস্তির গলি হয়ে হাতে হেলমেট নিয়ে ১টা ২০ মিনিট নাগাদ বেরিয়ে আসেন দ্বীপ।
এসব ঘটনা তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে দীপ ও দিশাকে। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করেছে নৌ পুলিশ। টঙ্গির এই মাঠটি রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। ২৮ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে এই জায়গা দিয়েই মাঠে প্রবেশ করেন পুলিশের আট সদস্যের একটি টহল টিম। তারা এই জায়গা ধরে এই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে অন্তত ২০ মিনিট সময় নেয়।
অর্থাৎ রাত ১টা ২৫ মিনিটে পুলিশের সেই টহল টিমটি এই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দীপ এবং তাহসিফের। কিন্তু তাহসিফ ১টা ৩৫ মিনিটে তার মাকে ফোন দিয়ে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জানান তিনি বাসায় আসছেন। ১টা ৩৫ মিনিটের পর তাসিফের সঙ্গে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল যে তাসিফের মরদেহ পরবর্তীতে উদ্ধার হয় তুরাগ নদের রাজাঘাট এলাকা থেকে- সে প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।