বিজ্ঞাপন
শিরশ্ছেদের শিকার দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে ফের ধোঁয়াশা
সৌদির টালবাহানার অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুই বাংলাদেশির মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে তাদের পরিবার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগ করা হলেও সৌদি আরবের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় তিন সপ্তাহ পরও মরদেহের অবস্থান এবং দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুয়েতি আক্তার। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাদের বিরুদ্ধে মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগের কথা বলা হলেও ঘটনার বিস্তারিত, বিচারপ্রক্রিয়া এবং রায়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রোববার (১ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বাংলাদেশের পাঠানো কূটনৈতিক চিঠির কোনো জবাব তখনো দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠিতে দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, আদালতের রায়, তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ বা আইনি সহায়তার বিষয় এবং মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।
নজরুলের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের কাছ থেকে কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করলেও মরদেহ কোথায় রয়েছে কিংবা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তারা কোনো তথ্য পাননি। অন্যদিকে সুয়েতির বাবা মেয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেট জানিয়েছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের কিছু জানায়নি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি প্রকাশের পর কনস্যুলেট বিষয়টি জানতে পারে। পরে ঢাকার পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চাওয়া হয়।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে দ্রুত জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যদি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ-সংক্রান্ত তথ্য থাকে। তবে এই অনুচ্ছেদে মরদেহ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার সরাসরি বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়নি।
এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দুই বাংলাদেশির আটক, বিচার, রায় এবং তাদের আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। গত ২৮ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দেয়া কনস্যুলার সহায়তার তথ্য জানতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব না আসায় এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, দুই বাংলাদেশির মরদেহ কোথায় রয়েছে এবং কখন তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর বা দেশে ফেরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।