Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়, দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ এএম

তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়, দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর

বিজ্ঞাপন

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার সঙ্গে শেষবারের মতো দীর্ঘ সময় কাটানো বন্ধু দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন তিনি। তবে ঘটনার রাতের সময় ও অবস্থান নিয়ে দীপের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলও।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। পরদিন শুক্রবার তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের পর তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মধ্যরাতে পিবিআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাবর রোডের ওই বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

শুক্রবার দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআইয়ের তদন্ত দল। তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পাশের মাঠে কী ঘটেছিল, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটির নম্বরপ্লেট ছিল না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হতে এর কাগজপত্র এবং ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে মোটরসাইকেলটি প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের কথাবার্তার একপর্যায়ে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন।

দীপের ভাষ্য, ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল। তাদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন এবং একপর্যায়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পরে সেখান থেকে চলে যান।

তবে ধাওয়াকারীরা সত্যিই পুলিশের সদস্য ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পিবিআই। পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশের কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না, কেউ পুলিশের পোশাক পরেছিলেন কি না কিংবা তাঁদের সেখানে কোনো দায়িত্ব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপের বক্তব্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। তাহসিফকে নিয়ে কেন ওই মাঠে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। একপর্যায়ে সেখানে যাওয়ার কথাও অস্বীকার করেন। পরে মোটরসাইকেলটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে জানান, তাহসিফ তাকে মোটরসাইকেলে করে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ওই এলাকা আগে থেকে তার পরিচিত ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার রাতে তাদের সঙ্গে অন্য কেউ বা কোনো নারী ছিলেন কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপের কললিস্ট ও বার্তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ ও দীপের মধ্যে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ১০ থেকে ১২ বার যোগাযোগ হয়েছিল।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফ ও দীপকে একসঙ্গে দেখা যায়। তারা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলানোর পর দুটি আলাদা মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।

পরিবারকে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা হওয়ায় তারা একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। পরে মোটরসাইকেল মেরামত করে একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান। তবে পরবর্তী সময়ে পিবিআইয়ের অনুসন্ধানে তাদের রাতের চলাফেরা ও যোগাযোগের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যায়। দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, রাতের কোনো একপর্যায়ে তারা টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন।

২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পায় টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ি। পরে রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে সেটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার