বিজ্ঞাপন
রোগী সেজে এনএসআই সদস্যের অভিযান, ধরা পড়লেন ভুয়া চিকিৎসক
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
রোগী সেজে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) এক সদস্যের অভিযানে ধরা পড়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা বাজারের এক নারী। চিকিৎসাসেবা দেওয়ার স্বীকৃত ডিগ্রি ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তাসলিমা আক্তার আন্নি নামের ওই নারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই বাজারের পল্লবী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্যাথলজিস্ট না থাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাধবপাশা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধবপাশা বাজারের মেসার্স আন্নি ফার্মেসিতে তাসলিমা আক্তার আন্নি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিতেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এনএসআইয়ের এক সদস্য রোগী সেজে ওই ফার্মেসিতে যান। চিকিৎসা নেওয়ার সময় তিনি ওই নারীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরে গোয়েন্দা সদস্যরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তাসলিমা আক্তার আন্নির চিকিৎসক হিসেবে প্রয়োজনীয় স্বীকৃত ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন নেই। অথচ তিনি প্রায় এক থেকে দেড় বছর ধরে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দিয়ে ব্যবস্থাপত্র লিখে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়। অভিযানের সময় চেম্বার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়।
ফার্মেসিটির নিবন্ধনের মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছিল। বর্তমানে নিবন্ধনের মেয়াদ না থাকা এবং প্রয়োজনীয় ফার্মাসিস্ট না থাকার বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে। পাশাপাশি লাইসেন্স ছাড়া শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। ফার্মেসিটির ওপরের অংশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার বিষয়টিও নজরে আসে।
এসব অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় তাসলিমা আক্তার আন্নিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ না করার জন্য তাঁকে সতর্ক করা হয়।
একই দিন মাধবপাশা বাজারের পল্লবী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রয়োজনীয় সনদ ও প্যাথলজিস্ট ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া পরীক্ষাগারের পরিবেশ নিয়েও আপত্তি ওঠে।
প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় এর ম্যানেজার মো. সাব্বির সরদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তুর্য্য অধিকারী বলেন, এনএসআইয়ের মাধ্যমে মাধবপাশা বাজারে একজন ভুয়া চিকিৎসকের রোগী দেখার বিষয়ে তারা জানতে পারেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর বিএমডিসি নিবন্ধন পাওয়া যায়নি। নার্সিং-সংক্রান্ত কিছু প্রশিক্ষণ বা যোগ্যতা থাকলেও তা দিয়ে নিবন্ধিত চিকিৎসকের মতো অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার বৈধতা তৈরি হয় না।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ছাড়াই মা ও শিশুর রোগীদের অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ দেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল চিকিৎসা কিংবা ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে লিভার, কিডনি, হৃদ্যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া ফার্মেসিটির জন্য প্রয়োজনীয় ফার্মাসিস্টের নিবন্ধনও পাওয়া যায়নি। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও পাওয়া গেছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, তাসলিমা আক্তার আন্নি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে মাধবপাশা বাজারে রোগী দেখে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা ও বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক, অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।