Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

দীপের দুই বক্তব্যে অমিল, তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

দীপের দুই বক্তব্যে অমিল, তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য

বিজ্ঞাপন

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে দীপ দাবি করেছিলেন, রাতে একসঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া শেষে তারা দুজন আলাদা পথে চলে যান। কিন্তু পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জিজ্ঞাসাবাদে তার বরাত দিয়ে ভিন্ন একটি বর্ণনা সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কয়েকজন লোক ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন, আর দীপ পালিয়ে যান।

একই ঘটনার শেষ মুহূর্ত নিয়ে দুই ধরনের বর্ণনা সামনে আসায় তাহসিফের মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন। দীপের বক্তব্যের পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই করছে পিবিআই।

তাহসিফ সাউরীর (২৮) ভাসমান মরদেহ গত বুধবার বিকেলে ঢাকার তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফের সম্পৃক্ততা ছিল-এমন আলোচনা রয়েছে। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

তার পরিচিত ও ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, সম্প্রতি তিনি কয়েকটি হুমকি পাওয়ার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোড এলাকার একটি বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপই তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

পিবিআইয়ের হেফাজতে নেওয়ার আগে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে দীপ জানিয়েছিলেন, তাঁর ও তাহসিফের মোটরসাইকেল একই মডেলের। তাহসিফের মোটরসাইকেলটি অকেজো হয়ে পড়ায় তিনি সেটি চালু করতে সহায়তা করেন। এরপর দুজন একসঙ্গে উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে যান।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ার্কশপে তাহসিফের মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় কিছু কাজ করা হয়। কাজ শেষে তাঁরা আবার অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ফিরে আসেন।

এরপর একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে দুজন একসঙ্গে রাতের খাবার খান বলে দাবি করেন দীপ। তাঁর বক্তব্য, খাওয়াদাওয়া শেষে তিনি নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা হন এবং তাহসিফ অন্য পথে চলে যান। তাহসিফ কোথায় বা কী কাজে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্টভাবে কিছু জানেন না বলেও জানিয়েছিলেন।

তবে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পিবিআই কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ঘটনার শেষ মুহূর্ত নিয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। বাহিনীটির এক পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে জানান, দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ঘটনাস্থলে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন লোক তাঁদের ধাওয়া করেন। তখন তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং দীপ সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দীপের বক্তব্যসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমকে দেওয়া দীপের আগের বক্তব্য এবং পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তার নামে উঠে আসা বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রেস্তোরাঁ থেকে আলাদা পথে চলে যাওয়ার দাবি এবং ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার বর্ণনা—দুটি বক্তব্যের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

মৃত্যুর আগে নিজের চাকরি থেকে অব্যাহতি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং ওই সময়ের কিছু ঘটনা নিয়ে কথা বলেছিলেন তাহসিফ। তবে সব তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘সবকিছু আমি বলব না। আমারও কিছু অপরাগতা আছে।’

তাহসিফের ওই বক্তব্যের পর তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে তিনি যেসব বিষয় প্রকাশ করেননি, সেগুলোর সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের দাবি, যে এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে তিনি কখনো যেতেন না। এ কারণে তাঁর সেখানে পৌঁছানোর পরিস্থিতি নিয়েও তাঁদের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে তার চাকরি থেকে অব্যাহতি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কিংবা ভিডিও-সংক্রান্ত আলোচনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

পিবিআই জানিয়েছে, দীপের বক্তব্যসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার