বিজ্ঞাপন
‘ইউনিফর্মধারীদের ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন’
দীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ হতে পারছে না পিবিআই
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে তার ‘বন্ধু’ শাহরিয়ার রেজা দীপ বলেছেন, ২৭ অক্টোবর রাতে তুরাগ নদী সংলগ্ন এলাকায় কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। লোকগুলো ‘ইউনিফর্ম’ পরা ছিল বলে দাবি তার।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
দীপকে গতকাল রাতে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তারা যেখানে যেখানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গা পরিদর্শন করেছে পিবিআই।
তার দেওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দীপের দাবি ঘটনার দিন তিনি তাহসিফের সঙ্গে তুরাগ সংলগ্ন মাজার বস্তিতে যান। সেখানে যখন তারা কথা বলছিলেন, তখন কিছু লোক তাদের ধাওয়া দেয়।'
'তখন তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দীপ কোনোমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে জানিয়েছেন,' বলেন ওই কর্মকর্তা।
পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'আমরা এখনো তার (দীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।'
ওই এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পিবিআই। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
মাজার সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের দোকানি জুবায়দা বেগম ডেইলি স্টারকে জানান, মোটরসাইকেলটি গত ২ দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫-২০ মিটার দূরে সড়কে রাখা ছিল।
'দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে,' বলেন জুবায়দা।
আজ শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল টঙ্গীর তুরাগ নদীর ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিচ্ছেন দীপ।
দীপ বলেন, 'দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। আমি তখন (২৯ নম্বর) পিলারের পেছনে এসে আমি দাঁড়াই, যেন ইউনিফর্ম পরা লোকেরা আমাকে দেখতে না পায়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। কিন্তু আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।'
পিবিআই জানায়, জায়গাটি নদীর ৫০ মিটারের মধ্যে এবং তুরাগ নদীর এই অংশ কামারপাড়া ও টঙ্গী ব্রিজের অনেকটা মাঝামাঝি।
২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীতে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফ সাউরিকে এক যুবকের সঙ্গে দেখা যায়। তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় তাহসিফকে।
ওই যুবক তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপ বলে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন।
পিবিআই জানায়, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নৌ-পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ছায়া তদন্ত করছে এবং নৌ পুলিশকে সহযোগিতা করছে।
এর আগে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রাতে তাহসিফের 'জুনিয়র বন্ধু' আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এনায়েতুর রহমান মান্না জানান, পিবিআই উত্তর বিভাগের একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয়।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন তাহসিফ। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি।
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানান, তাহসিফের মা বারবার ফোন করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি।