বিজ্ঞাপন
৯ মাসে ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা লোকসান ইসলামী ব্যাংকের
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৭ এএম
বিজ্ঞাপন
চলতি ২০২৬ পঞ্জিকা বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কর-পরবর্তী ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। অথচ গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ৭৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল। অন্যদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির একক লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪১৪তম সভায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়।
বিপুল এ লোকসানের প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২০ টাকা ৫১ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৪৯ পয়সা। সমন্বিত হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২০ টাকা ৪১ পয়সা। আর শুধু জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ২৭ পয়সা এবং সমন্বিত হিসাবে ১২ টাকা ২৪ পয়সা।
লোকসানের ধাক্কায় এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্যও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে একক হিসাবে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকায়। একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৪৩ টাকা ২৫ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২২ টাকা ২৭ পয়সা। সমন্বিত হিসাবে তা ৪৪ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৬৪ পয়সায়।
এ ছাড়া, বছরের প্রথম ৯ মাসে একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ৩৬ টাকা ৫৪ পয়সা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ প্রবাহ ছিল ধনাত্মক ১১ টাকা ৮৯ পয়সা।
ব্যাংকের পর্ষদ সভায় উত্থাপিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ লোকসানের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা এবং বিনিয়োগ থেকে আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া। পাশাপাশি আমানতকারীদের জমা অর্থের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামভিত্তিক বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নামে-বেনামে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বের করে নেয়, যার সিংহভাগই পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায় এস আলম গ্রুপ। পরে অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের হাত ঘুরে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ব্যাংকটির পুনর্গঠন ও পরিচালনার কাজ চলছে।