Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

কিছু একটা নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন তাহসিফ, জানালেন বাবা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

কিছু একটা নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন তাহসিফ, জানালেন বাবা

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরি কোনো একটি বিষয় নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা কেএম এনায়েতুল করিম। তবে কী কারণে তার ছেলে আতঙ্কিত ছিলেন, তা জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাহসিফের মৃত্যুর আগে দিনভর মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছিলেন। বাবার জন্যও কিছু জিনিস কিনেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দ্বীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন। রাতে মাকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, বাসায় ফিরছেন। কিন্তু এরপর আর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন বুধবার বিকালে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম ও এক স্বজনের সঙ্গে কথা বলে তার নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তাহসিফ। তার বাবা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় এক ছোট ভাই বাসার নিচে এসে তাকে ডাকেন। দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে আসার কথা জানিয়ে তাহসিফ নিচে নেমে যান। এরপর আর বাসায় ফেরেননি।

ছেলের নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনা বর্ণনা করে এনায়েতুল করিম বলেন, ‘যেদিনের ঘটনা ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পরে, সারাদিন আমার মায়ের সঙ্গে ছিল। শপিং-টপিং করেছে, আমার জন্যও কিছু শপিং করেছে। তো এনিওয়ে, সন্ধ্যার পরে ওর একটা জুনিয়র মানে বন্ধু, ছোট ভাই উঠে এসে নিচ থেকে ডাকে যে কথা বলতে। তো ওর মাকে বলে আমার ছেলে যে, একটু দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি। এটা বলে সে নিচে যায়, আর ফেরে নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ও ফেরে নাই এবং রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সে মেসেজ দিয়েছে যে সে আসছে, আম্মু আমি আসছি—এরম গোছের একটা ব্যস্ত মেসেজ দিয়েছে। এরপর থেকে তার আর লোকেট করতে পারিনি।’

ছেলের খোঁজে থানায় যাওয়ার কথাও জানান তাহসিফের বাবা। তিনি বলেন, ‘আমি উত্তরা থানায় গিয়েছিলাম গতকাল দুপুরে। ওরা বলল যে না, এরকম কোনো ব্যাড নিউজ তো নাই। আপনি নিশ্চিত থাকুন। কিন্তু সন্ধ্যার আগে বোধ হয় সোয়া পাঁচটার দিকে উত্তরখান থানার ওসি সাহেব আমার সঙ্গে কথা বললেন। নাম, ছেলের নাম এগুলো নিশ্চিত হয়ে, এরপর আমাকে জানালেন যে মৃতদেহ পাওয়া গেছে নদীতে।’

তাহসিফের বাবা জানান, রাজাবাড়ী ঘাটের ওই এলাকায় তার ছেলে সাধারণত যেতেন না। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘এটা হলো রাজাবাড়ী ঘাট, আর কিপাড়া দিয়ে যেতে হয়। তো ওই এলাকায় আমার ছেলে কখনোই যায় না। ওরকম কিছু বলে নাই। তবে মাঝে মাঝে আমাকে বলতো যে সে একটু আতঙ্কিত। আতঙ্কিত কেন, এটা কেন হলো? এটা জানি না।’

এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার ওই মোটরসাইকেল নিয়েই তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার এক স্বজন।

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার