Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসকসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসকসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন প্রকৌশল, কৃষি, আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও। প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের (আইপিইএমআইএস) ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৩০ ধরনের। সবচেয়ে বেশি শিক্ষক স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী।

আইপিইএমআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৭০ জন। তাঁদের মধ্যে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৪ জন। স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারী ৯৯ হাজার ৯৭৭ জন। এইচএসসি পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪২ হাজার ২৪২ জন এবং স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী ২০ হাজার ৯৬৯ জন। এ ছাড়া বিএসএস ডিগ্রিধারী ১৩ হাজার ১৪৯ জন এবং এমবিএ ডিগ্রিধারী ৭ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।

বিশেষায়িত বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষকদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ৬১৭ জন। কৃষিতে বিএসসি ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ৪৯ জন। আইন বিষয়ে এলএলএম ডিগ্রিধারী ৩৮৬ জন ও এলএলবি ডিগ্রিধারী ৩১৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন।

শিক্ষকতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রিধারীদের মধ্যেও বৈচিত্র্য রয়েছে। এমএড ডিগ্রিধারী শিক্ষক ৩৬৭ জন, বিএড (অনার্স) ডিগ্রিধারী ২৮৭ জন এবং বিএড ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন। এ ছাড়া সাধারণ ডিপ্লোমাধারী ৪৩৮ জন এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ১২৬ জন শিক্ষক রয়েছেন।

ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের ডিগ্রিধারীরাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। তাঁদের মধ্যে কামিল ডিগ্রিধারী ৫ হাজার ৭৪১ জন, ফাজিল ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৮৯৭ জন, আলিম পাস ১ হাজার ২৩৮ জন এবং দাখিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪১২ জন।

প্রযুক্তি ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতাও রয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রিধারী শিক্ষক ২১ জন এবং এমএসসি ডিগ্রিধারী ১৭ জন। নার্সিং বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক রয়েছেন ২৩ জন। এ ছাড়া মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) ডিগ্রিধারী ৪১ জন, বিপিএড ডিগ্রিধারী ২৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজিধারী চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ৪২ জন। দন্তচিকিৎসায় বিডিএস ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন চারজন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উচ্চশিক্ষিতদের প্রাথমিক শিক্ষকতায় যুক্ত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এমফিল-পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের শিক্ষকতা পেশায় আসা শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শিক্ষকদের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক সবচেয়ে বেশি, ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৬ জন। ৪৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮২ জন। ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষক ৮২ হাজার ৮৬০ জন। আর ৫৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ২৪ হাজার ৫৮৭ জন।

শিক্ষকসংখ্যার পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর সুযোগ-সুবিধাও প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে তুলনামূলক কমসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে।

বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষিতদের প্রাথমিক শিক্ষকতায় অংশগ্রহণ শিক্ষাব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র তুলে ধরছে। তবে শিক্ষকদের ডিগ্রির বৈচিত্র্যের পাশাপাশি তাঁদের প্রশিক্ষণ, পাঠদানের দক্ষতা, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল নিশ্চিত করাও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: প্রথম আলো

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার