Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

স্পিডবোটে আটকে ছিল তাহসিফের মরদেহ, উঠে এলো প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

স্পিডবোটে আটকে ছিল তাহসিফের মরদেহ, উঠে এলো প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (তাওসিফ সৌরি) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীতে ভেসে আসা মরদেহটি রাজাবাড়ী খেয়াঘাটের কাছে একটি স্পিডবোটে আটকে ছিল। পরে পুলিশ এসে সেটি উদ্ধার করে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

টঙ্গীর তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী খেয়াঘাটে কাজ করেন খোকন মিয়া। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, দুপুরে নদীর দক্ষিণ পাশ দিয়ে পশ্চিম দিক থেকে একটি মরদেহ ভেসে আসতে দেখেন তিনি। নদীর তীর ধরে কয়েকজনকে মরদেহটির পাশাপাশি হাঁটতেও দেখেন।

খোকন মিয়ার ভাষ্য, কিছুক্ষণের মধ্যে মরদেহটি তাঁর সামনে দিয়ে ভেসে যায়। খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে বাঁধা চারটি স্পিডবোট ও একটি নৌকার কাছে গিয়ে সেটি আটকে পড়ে।

তিনি বলেন, প্রথমে থাকা সাদা রঙের একটি স্পিডবোটে মরদেহটি আটকে যায়। তখন দুপুর ২টা। কয়েক ঘণ্টা সেখানে আটকে থাকার পর পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি সেখানে স্বজনদের দাঁড়িয়ে থাকতে এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছেন।

স্থানীয় এক নারীও মরদেহটি স্পিডবোটে আটকে থাকার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, মরদেহটি কাত হয়ে পড়ে ছিল। সেটি কোথা থেকে ভেসে এসেছিল, তা কেউ নিশ্চিতভাবে জানতেন না। স্পিডবোটে আটকে না থাকলে মরদেহটি আরও দূরে চলে যেতে পারত বলে মনে করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফ মাঝেমধ্যে তুরাগ নদীর ওই ঘাট এলাকায় যেতেন। ঘটনার দিনও তিনি উত্তরা এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই দিন তাহসিফ এক জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজাখুঁজি শুরু করার পর নদীর ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।

তদন্তের অংশ হিসেবে তাহসিফের সঙ্গে সর্বশেষ বাইরে যাওয়া ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। তাঁরা কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এরপর কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। মরদেহের অবস্থান ও শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ফরেনসিক দল গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে যুক্ত হয়েছে।

ঢাকা অঞ্চল নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কিছু নেই, যেটি দেখে মৃত্যুর কারণ বলা যায়। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও তদন্তে বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।’

তিনি আরও জানান, নৌ-পুলিশের পাশাপাশি একাধিক সংস্থা তথ্য সংগ্রহ করছে। তখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, তাহসিফের বাবা তখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ না এলে অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তাহসিফ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা আলোচনায় আসেন। তাঁদের একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী, অন্যজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিফাত আশরাফী বিমানবাহিনীর কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের জানালা থেকে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে, তাহসিফ নিজের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি রয়েছে। এ ঘটনার পর দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার