Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

দিনভর পরিবারের সঙ্গে শপিং, রাত দেড়টায় মাকে শেষ মেসেজ, অতঃপর...

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

দিনভর পরিবারের সঙ্গে শপিং, রাত দেড়টায় মাকে শেষ মেসেজ, অতঃপর...

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক সামরিক পাইলট ও কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে তার নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনের নানা তথ্য। পরিবারের সদস্যদের জন্য সারাদিন কেনাকাটা করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যার পর এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। রাতে মাকে শেষ বার্তা পাঠিয়েছিলেন, ‘আম্মু আমি আসছি’। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।

তিনি জানান, গত ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেন তাহসিফ। এ সময় মাকে সঙ্গে নিয়ে বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও শপিং করেন তিনি। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়র ছোট ভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি।

তাহসিফের বাবা বলেন, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছেলের কাছ থেকে ‘আম্মু আমি আসছি’ লেখা একটি মেসেজ পেয়েছিলেন তারা। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ভোর সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে ছেলের মরদেহের সন্ধান পান তারা।

তিনি আরও জানান, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় এর আগে কখনো যাননি তাহসিফ।

তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তার বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওই সময়ে আরও কয়েকজনকেও বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তাহসিফ।

এদিকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রেঞ্জের নৌ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ সাউরি। বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ-পুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার এক আত্মীয়কে খবর দেওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ ছড়িয়েছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।

গত ২১ জুলাই ইউটিউবের ‘স্পিক উইথ রশীদ’ চ্যানেলে প্রকাশিত এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারেও তাহসিফ বলেন, প্রথমত, আমার মনে হয়, ‘গণমাধ্যমে’ যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে, সেটি দিয়ে তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য কী, আমি জানি না। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে, আমি ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি ভিডিওটি ধারণ করেছি, এমন কথা তারা বলেনি। তারা বলেছে, রিফাত আশরাফি ভিডিওটি ধারণ করেছেন এবং আমি সেটি ছড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি যদি ভিডিওটি ধারণ করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি, তাহলে এর প্রমাণ কী? আমি সেটি জানতে চাই। এটাও হতে পারে, এ কারণেই হয়তো আজ আমি বিমানবাহিনীতে নেই।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার