বিজ্ঞাপন
পুলিশে ১৪ হাজার নিয়োগ, সরাসরি নেওয়া হবে ৪ হাজার এসআই
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩ এএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ১০ হাজার কনস্টেবলসহ মোট ১৪ হাজার জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে এসআই পদে চার হাজার জনকেই সরাসরি নিয়োগ দিতে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) সংশোধন করা হয়েছে।
সাধারণত পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী, এসআই পদের ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তবে এবারই প্রথম পদোন্নতির নিয়ম শিথিল করে এসআই পদের শতভাগ সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ১৪ হাজার জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক ও জোরদার করতে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন এসব পদ সৃজন করা হয়েছে। প্রবিধান সংশোধন করে আপাতত একবারের জন্যই চার হাজার এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশের দলীয় প্রভাব, গত আট মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া এবং স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রবিধান সংশোধন করে এসআই পদে শতভাগ সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্তে পদোন্নতিপ্রত্যাশী বিভাগীয় সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এতে মাঠপর্যায়ে হতাশা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে শূন্যতা পূরণে ৫২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৪০০ থেকে ৫০০ জন নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়োগের পর তাঁদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময়কাল কিছুটা কমানোর বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কঠোর গোয়েন্দা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।