Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাবেন ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী, কোন খাতে কতজনের চাকরির সুযোগ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাবেন ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী, কোন খাতে কতজনের চাকরির সুযোগ

বিজ্ঞাপন

জাপানে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণ, কারখানা, কেয়ারগিভিং, কৃষি ও অটোমোবাইল মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ তৈরির এই উদ্যোগের আওতায় ২০৩০ সালে এক বছরেই ৫০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশি কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ অর্জন করতে হবে।

জাপান বাংলা ব্রিজ রিক্রুটিং এজেন্সি (জেবিবিআরএ), বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং জাপানের ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কো-অপারেটিভসের (এনবিসিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এক লাখ কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দুই হাজার, ২০২৭ সালে ছয় হাজার, ২০২৮ সালে ১২ হাজার, ২০২৯ সালে ৩০ হাজার এবং ২০৩০ সালে ৫০ হাজার কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। খাতভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণশিল্পে ৪০ হাজার, কারখানায় ২০ হাজার, কেয়ারগিভিংয়ে ২০ হাজার এবং কৃষি, অটোমোবাইল মেরামতসহ অন্যান্য খাতে ২০ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক পৃথক সহযোগিতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হওয়ার কথা। চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর বিধান রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি কর্মীদের সমপর্যায়ের আইনি সুরক্ষা পাবেন। নারী কর্মীরা গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে চাকরি থেকে বাদ পড়া কিংবা বৈষম্যের শিকার হবেন না। এ ধরনের কারণে তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর বিধানও রাখা হয়নি। পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি, তুলনামূলক বেশি বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদে জাপানে বসবাসের সুযোগ তৈরির কথাও জানানো হয়েছে।

জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। ২০৪০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রাক্কলন রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তির জন্য এই চাহিদা নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

এই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএমইটির অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মীদের সংশ্লিষ্ট পেশায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি জাপানি ভাষায়ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণের মান, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার